প্রবল বর্ষণে কলকাতা ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়ে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, মঙ্গলবার ভোররাত থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাতের মাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়, যা ১৯৮৮ সালের পর সর্বোচ্চ।
দুর্গাপূজার আগে হঠাৎ এই দুর্যোগে মণ্ডপ, অস্থায়ী কাঠামো, বাঁশ, সাজসজ্জার সামগ্রী ও কাদামাটির প্রতিমাসহ নানা প্রস্তুতিতে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শহরের বহু প্রধান সড়ক ও গলিপথ কোমর–সমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বাসিন্দাদের কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির ভেতরে কিংবা সড়কে আটকে থাকেন। অনেকে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান। যান সরানোর কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর কাছে প্রতি ঘণ্টায় অসংখ্য কল আসছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে শুধু কলকাতায়ই অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। দুজনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে।
পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আকাশ ও রেলপথের যাতায়াতেও। বেশ কিছু ট্রেন ও ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। বহু এলাকা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থেকেছে, যা মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পানিপূর্ণ সড়ক ও রেললাইন পরিষ্কারে পাম্প পাঠানো হয়েছে এবং জরুরি ত্রাণ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের আরো বৃষ্টি হতে পারে। এরই মধ্যে সরকার বুধ ও বৃহস্পতিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, যা মূলত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দুর্গাপূজার ছুটির সঙ্গে যুক্ত হবে।
কর্মকর্তাদের আশা, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ধীরে ধীরে পানি নামবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। পাশাপাশি বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।










