প্রবল শৈত্যপ্রবাহ চীনের বেশির ভাগ অঞ্চলকে স্থবির করে দিয়েছে। ফলে সড়ক, মহাসড়ক ও রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারি বৃষ্টিপাত, তুষারপাত ও হিমশীতল তাপমাত্রার প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।

উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়া শৈত্যপ্রবাহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নামিয়ে আনতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ হেইলংজিয়াং, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং, ইনার মঙ্গোলিয়া এবং গানসু ও কিংহাই প্রদেশের তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ গুয়াংসি অঞ্চল সফরকালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্থানীয় সরকারগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার ও জরুরি পরিকল্পনা পরিমার্জন করার আহ্বান জানান। শৈত্যপ্রবাহ উত্তর থেকে দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা আরো কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি ও তুষারপাত কমবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

হেনান প্রদেশে ঘন কুয়াশার সঙ্গে তুষারপাত রাস্তাগুলোর যান চলাচলকে প্রভাবিত করেছে। বেশ কয়েকটি এক্সপ্রেসওয়েতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটার ফলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিংজিয়া অঞ্চলের ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানায়, তুষারপাতের কারণে তাদের কিছু মহাসড়ক অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এজন্য অস্থায়ী যান চলাচল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী গানসুতেও কিছু মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

বেইজিংয়ের একটি কমিউটার রেললাইনে দুর্ঘটনার তদন্ত করা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাহাড়ের নিচে যাওয়ার সময় একটি ট্রেনের বগি ব্রেক করতে ব্যর্থ হয়। ফলে থেমে থাকা অন্য একটি রেলের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন কাজ করেছে। ফেরি রুট স্থগিত এবং কৃষি ফসল সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে নিম্ন তাপমাত্রা বজায় রেখে সারা দেশে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

চীন শুক্রবার ভোরের আগেই তুষারঝড়ের সতর্কতা তুলে নিলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লিয়াওনিং ও জিলিন প্রদেশের পাশাপাশি শানডংয়ে ভারি তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।

লিয়াওনিংয়ের শেনইয়াং শহরে কর্তৃপক্ষ তুষার অপসারণের জন্য ২২ হাজার শ্রমিক ও ৩ হাজার ৪০০-রও বেশি মেশিন মোতায়েন করা হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে সারা দেশে উত্তর থেকে দক্ষিণে শীতল বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে, ফলে মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের তাপমাত্রা কম থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।