যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার শপথ নেবেন। দায়িত্ব নেয়ার পর পরই তার প্রশাসন দেশজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে কঠোর নীতি, আরো গ্রেফতার ও অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলায় অন্যান্য ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।
অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তি বলেছেন, ‘আমরা সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করব। আপনারা নিউইয়র্কে গ্রেফতার দেখতে যাচ্ছেন। আপনারা মিয়ামিতেও গ্রেফতার দেখতে পাবেন।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রটি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে যে নতুন প্রশাসন আগামী মঙ্গলবার শিকাগোয় বড় পরিসরে অভিবাসন আইন প্রয়োগ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।
অভিযানের পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত চার ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গণমাধ্যমটি এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, শিকাগোয় অভিবাসন আইন প্রয়োগ অভিযান সপ্তাহজুড়ে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ অভিযান পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ১০০-২০০ অফিসার মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সূত্রটি অস্বীকার করেছে যে শিকাগোয় কর্মকর্তা স্থানান্তরের জন্য বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলেনি ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিম।
গত ৫ নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল অভিবাসন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে এগিয়ে থাকতে বিষয়টি তাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। অভিবাসন নীতি, এ বিষয়ে সংস্কার ও আইন প্রয়োগ সম্পর্কিত বক্তব্যের কারণে তিনি ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন।
গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমার শপথ গ্রহণের কিছু সময়ের মধ্যে আমরা আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ নির্বাসন অভিযান শুরু করব।’ রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীদের বিতাড়িত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছেন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। কারণ দেশটিতে প্রায় ৫০ শতাংশ খামার শ্রমিকের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ। খামার সম্পর্কিত বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, তাদের বিতাড়িত করলে দেশটির খাদ্য উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কেন্দ্রীয় উপত্যকায় আদিবাসী মেক্সিকান খামার শ্রমিকদের সমর্থনকারী একটি সংস্থা সেন্ট্রো বিনাসিওনাল প্যারা এল দেসারোলো ইন্ডিজেনা ওয়াক্সাকুয়েনোর (সিবিডিআইও) নির্বাহী পরিচালক সারিত মার্টিনেজ বলেছেন, ‘নতুন প্রশাসন এখনো শপথ নেয়নি। তবে এরই মধ্যে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।’
সিবিডিআইওসহ যুক্তরাষ্ট্রের চারটি গ্রামীণ ও আইনি সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়টার্সকে বলেছেন, তারা অভিবাসী খামার শ্রমিকদের সাহায্য চাওয়ার সংখ্যায় ১০ গুণ বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছেন। অভিবাসন কর্মকর্তারা যদি এ শ্রমিকদের কাজ করা থেকে বিরত রাখেন ও আটক করেন, তাহলে তারা কী করবেন সে বিষয়ে তাদের কর্মশালার মাধ্যমে জানানো হচ্ছে।
কৃষি শিল্পের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর খাদ্য উৎপাদনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন, বিশেষত ক্যালিফোর্নিয়ায়। ক্যালিফোর্নিয়া খাদ্য ও কৃষি দপ্তর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ সবজি, তিন-চতুর্থাংশ ফল ও বাদাম এবং প্রচুর দুধ ও প্রাণীজ পণ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় উৎপাদন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান তথ্যানুযায়ী, প্রায় চার লাখ কৃষি শ্রমিক ওই সব শস্য কাটা ও প্রক্রিয়াজাত সম্পর্কিত কাজ করে থাকেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-মারসেড কমিউনিটি ও শ্রম কেন্দ্রের তথ্যমতে, এর প্রায় ৭৫ শতাংশ শ্রমিকের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই। ফলে তারা চিন্তায় দিন পার করছেন।










