পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির একটি আদালত। গতকাল আদিয়ালা কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে বিচারপতি নাসির জাভেদ রানা এ রায় ঘোষণা করেন। ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতির এ মামলায় ইমরানকে ১৪ বছর ও বুশরাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইমরানকে ১০ লাখ ও বুশরাকে ৫ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে ইমরানকে অতিরিক্ত ছয় মাস ও বুশরাকে তিন মাস কারাগারে থাকতে হবে। খবর ডন।
রায় ঘোষণার আগে তিনবার তারিখ পরিবর্তন করা হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর ইসলামাবাদের অ্যাকাউন্টেবিলিটি আদালতে মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে শীতকালীন ছুটির কারণে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত রায় স্থগিত করা হয়। ৬ জানুয়ারি বিচারপতি নাসির জাভেদ রানা ছুটিতে থাকায় সেদিনও রায় ঘোষণা করা হয়নি। এরপর ১৩ জানুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ইমরান ও বুশরা আদিয়ালা কারাগারে স্থাপিত আদালত কক্ষে হাজির হতে পারেননি উল্লেখ করে সেদিনও রায় স্থগিত করা হয়। অবশেষে গতকাল রায় ঘোষণা করা হলো।
পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) ইমরান ও বুশরার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে তারা বাহরিয়া টাউন লিমিটেড থেকে কোটি কোটি রুপি ও জমি নিয়েছিলেন। অভিযোগে আরো বলা হয়, পিটিআই সরকারের সময়ে যুক্তরাজ্যের ফেরত দেয়া ৫ হাজার কোটি রুপিকে বৈধ করার জন্য এসব লেনদেন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খানকে গ্রেফতার করা হয়। আর একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে মামলায় ইমরান ও বুশরাকে অভিযুক্ত করা হয়।
রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষ থেকে বুশরা বিবিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আদিয়ালা কারাগারের বাইরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইমরান অভিযোগ করেন, তার ওপর চাপ তৈরি করতে রায় ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এটিকে ‘ভুয়া মামলা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এরই মধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। বৃহস্পতিবার পিটিআই তাদের দাবি-দাওয়ার তালিকা সরকারের কাছে উপস্থাপন করে। একই দিন সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং পিটিআই নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়।
২০২২ সালের ৯ এপ্রিল পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান ইমরান। পরে বেশ কয়েকটি মামলায় ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। ইমরানের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরই মধ্যে গত বছর সাইফার ও ইদ্দত মামলায় খালাস পান তিনি। তবে গত ডিসেম্বরে তোশাখানা-২ মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলা চলমান।










