হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধকে একুশ শতকের সবচেয়ে প্রাণহানিকর যুদ্ধ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে যুদ্ধবিষয়ক সংস্থা অক্সফাম। সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় প্রতিদিন গড়ে ২৫০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হচ্ছে। একুশ শতকে বিশ্বব্যাপী যত যুদ্ধ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে গাজায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হচ্ছে। খবর আল জাজিরা।
এদিকে চলমান হামলায় একদিনের ব্যবধানে আরো ১৩৫ ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর দিয়েছে গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ সময় আহত হয়েছে আরো অন্তত ৩১২ জন। গতকাল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, হামলার পর অনেকে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ২৩ হাজার ৮৪৩ ফিলিস্তিনি। এ সময় মোট আহত হয়েছে ৬০ হাজার ৩১৭ জন। আহতদের মধ্যে অনেকেই জীবন-মৃত্যুর সন্নিকটে রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আইডিএফের মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারির দাবি, এখন পর্যন্ত গাজায় আট-নয় হাজার হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হতাহতদের বেশির ভাগই শিশু। হামলার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ওষুধ ও খাবারের তীব্র সংকট। চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের বিভিন্ন অবৈধ বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালায় হামাসের যোদ্ধারা। তাদের এ হামলায় কয়েকশ সেনাসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। হামাসের এ হামলার পর গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রতিদিনই শত শত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি মিডিয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি হামলার ফলে গাজায় ৫৫টি মসজিদ, তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়, তিনটি গির্জা ও পাঁচটি ভবন ধ্বংস হয়েছে। বিবৃতি অনুসারে, ১ হাজার ৮০০ শিশুসহ প্রায় ৬ হাজার জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
ফিলিস্তিনি মিডিয়া অফিস আরো জানিয়েছে, ইসরায়েলি দখলদারত্বের জেরে ১ হাজার ২৭০টি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে রেহাই পায়নি চিকিৎসকরাও। মোট ২০০ চিকিৎসক, ২২ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও ৫১ জন সাংবাদিকও হামলায় নিহত হয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় থাকা ২৫টি হাসপাতাল, ৫২টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও ৫৫টি অ্যাম্বুলেন্সকে ইসরায়েলি বাহিনী লক্ষ্যবস্তু করেছে।










