নিজের মেয়েকে উত্তরসূরী হিসেবে বেছে নিচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা আইনপ্রণেতাদের এ বিষয়ে জানান।
১৩ বছর বয়সী কিম জু আয়ের জীবন বরাবরই ছিল গোপনীয়তায় মোড়ানো। কিন্তু গত কয়েক মাসে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু অনুষ্ঠানে বাবার পাশে তাকে দেখা গেছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে বেইজিংয়ে চীনের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) কিম জু আয়ের কর্মকাণ্ডসহ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোয় তার সরব উপস্থিতিকে পর্যবেক্ষণ করছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির আসন্ন কংগ্রেসে জু আয়ে উপস্থিত হন কিনা সে বিষয়ে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এনআইএস।
এ কংগ্রেসেই পিয়ংইয়ং আগামী পাঁচ বছরের জন্য পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধ পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার আইনপ্রণেতা লি সেওং-কোয়েন সাংবাদিকদের বলেন, এনআইএস জু আয়েকে কিম জং উনের উত্তরসূরি হিসেবে ‘প্রস্তুত করা হচ্ছে’ বলে বর্ণনা করেছিল, কিন্তু এখন তিনি ‘উত্তরসূরি মনোনীত হওয়ার’ পর্যায়ে পৌঁছেছেন।
এছাড়া কোরিয়ান পিপলস আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং কুমসুসান প্যালেস অব দ্য সান পরিদর্শনের সময়ে জু আয়ের উপস্থিতি লক্ষনীয় ছিল। পাশাপাশি রাষ্ট্রের কিছু নীতিগত বিষয়ে তাকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে। এতে এনআইএস মনে করছে, এখন কিম জং উনের উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন কিম জু আয়ে। মূলত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচিত হতে যাচ্ছেন তিনি।
কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সল জু তাদের সন্তান হিসেবে শুধু কিম জু আয়েকেই সামনে এনেছেন। এনআইএসের ধারণা, কিম জং উনের একটি বড় ছেলেও রয়েছে। তবে তাকে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি বা উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমে দেখানো হয়নি।
জু আয়ের খবর প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে মার্কিন বাস্কেটবল খেলোয়াড় ডেনিস রডম্যানের সূত্রে। ২০১৩ সালে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ায় সফরের সময় শিশু জু আয়েকে কোলে নিয়েছিলেন।
২০২২ সালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো হাজির হন জু আয়ে। সেখানে তাকে বাবার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিদর্শনে দেখা যায়। এরপর থেকে তিনি দেশের গণমাধ্যমের সামনে প্রায়ই এসেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষার্ধ্বে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রকেট লঞ্চারের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পরিদর্শনের সময়েও ছিলেন তিনি।
লম্বা চুলে, জমকালো পোশাকে নিয়মিত দেখা যায় তাকে। এদিকে এ ধরনের সাজসজ্জা উত্তর কোরিয়ার অধিকাংশ মানুষের নাগালের বাইরে। শুধু তাই নয়, সেখানে কিশোরী মেয়েদের লম্বা চুল রাখাও নিষেধ।
তবে পুরুষতান্ত্রিক উত্তর কোরিয়ায় বড় ছেলের পরিবর্তে কেন কন্যাকে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে এটি নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, প্রথাগত সমাজ ব্যবস্থার কারণে দেশে কোনো নারী নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা কম। কিম জং উন এখনও সুস্থ দেখালেও কেন এখনই ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করছেন, সেটিও বেশ রহস্যজনক।
কিম জু আয়ে উত্তরসূরী হলে উত্তর কোরিয়ায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে তা এখনই স্পষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।










