চীনের অর্থনীতি নিয়ে আগে দেয়া পূর্বাভাস সংশোধন করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন এনে জানিয়েছে, চলতি বছর চীনের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ সম্প্রাসরণ হতে পারে। এতে প্রধান ভূমিকা রাখবে অনুকূল কর ও মুদ্রানীতি, যা দেশীয় ভোগ ও বিনিয়োগ বাড়াতে সমর্থন করছে। একই সঙ্গে চীনের রফতানি খাতকে স্থিতিশীল রেখেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাহিদা। খবর আনাদোলু।

এর আগে চীনের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। সে তুলনায় সর্বশেষ পূর্বাভাসে দশমিক ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে।

অবশ্য আগামী বছর চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি কমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৬ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ অর্থনীতি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ সম্প্রসারণ হতে পারে। আরো বলা হচ্ছে, আর্থিক নীতিতে পরিবর্তন ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে স্থিতিশীলতা চীনের বিনিয়োগ ও রফতানি খাতের সহায়ক হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনের অর্থনীতি চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শক্তিশালী গতি বজায় রেখেছে। ফলে গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

চীনের অর্থনীতিতে ভোক্তা চাহিদার দুর্বলতা বরাবরই আলোচিত। বিশ্বব্যাংকও বলছে, দেশটির মানুষ এখনো বেশি খরচ করতে চাইছে না। কারণ শ্রমবাজার বেশ দুর্বল ও বাড়ির দাম কমছে।

কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে চীনের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্পত্তি খাতের পতন। বিশ্বব্যাংক বলছে, তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে বিনিয়োগ ধীর হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে সম্পত্তি খাতের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ, উৎপাদন ও অবকাঠামো বাবদ মুনাফা কমা এবং স্থানীয় সরকারগুলোর কঠোর আর্থিক পরিস্থিতি।

চীন, মঙ্গোলিয়া ও কোরিয়ায় বিশ্বব্যাংকের পরিচালক মারা ওয়ারউইক জানান, আগামী বছরগুলোয় স্থানীয় চাহিদার ওপর আরো বেশি নির্ভর করবে চীনের প্রবৃদ্ধি।

তিনি বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি আর্থিক প্রণোদনার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষার কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে এবং আরো পূর্বাভাসযোগ্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এতে ব্যবসায়িক আস্থা বাড়বে এবং এটি স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।’

বিশ্বব্যাংকের মতে, যেকোনো দিকে হেলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে চীনের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট। রিয়েল এস্টেট শিল্পের সমস্যা, সীমিত আয়ের আশঙ্কা, দুর্বল শ্রমবাজার ও বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা মিলিয়ে প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় ভোগ ও বিনিয়োগকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

চীনের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কিছু পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংক বলছে, বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষায় চীন সরকার যদি বেশি খরচ করে এবং প্রপার্টি খাতকে স্থিতিশীল করতে শক্ত পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দেশটির প্রবৃদ্ধি এখনকার পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি হতে পারে।