গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৪৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এরই মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ১৫ প্যারামেডিককে হত্যার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। গত ২৩ মার্চ দক্ষিণ গাজায় ১৫ জন প্যারামেডিক বা জরুরি চিকিৎসা কর্মীকে হত্যা করেছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত সে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ পেলে ইসরায়েলি বাহিনীর দাবির অসাড়তা প্রমাণিত হয়। এবার তাই সৈন্যদের ভুল স্বীকার করেছে ইসরায়েল।

রাফাহর কাছে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অ্যাম্বুলেন্স, জাতিসংঘের একটি গাড়ি ও গাজার সিভিল ডিফেন্সের একটি দমকল বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। প্রথমে তারা দাবি করেছিল গাড়িবহরটি সিগন্যাল ছাড়াই ‘সন্দেহজনকভাবে’ এগিয়ে আসছিল।

তবে পরে নিহত একজনের ফোনে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। তাতে দেখা যায় যানবাহনগুলোয় স্পষ্ট আলো ছিল এবং তারা আহতদের সাহায্য করতে গিয়েছিল। পরে তারা স্বীকার করেছে ওই ছয়জন সশস্ত্র ছিল না।

শনিবার সন্ধ্যায় এক আইডিএফ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, সেনারা এর আগে তিনজন হামাস সদস্য থাকা একটি গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল। এরপর অ্যাম্বুলেন্সগুলো সে জায়গার কাছে গেলে আকাশ থেকে নজরদারির মাধ্যমে সেনাদের জানানো হয় গাড়িবহরটি ‘সন্দেহজনকভাবে’ এগিয়ে আসছে। অ্যাম্বুলেন্সগুলো হামাসের গাড়ির পাশে থামলে সেনারা মনে করে তারা হামলার মুখে পড়েছে এবং গুলি চালায়। যদিও পরে জানা যায় কারো কাছেই অস্ত্র ছিল না।

ইসরায়েল স্বীকার করেছে, যানবাহনগুলো আলো ছাড়া চলার যে দাবি তারা করেছিল তা ভুল এবং এ তথ্য আসলে সংশ্লিষ্ট সৈন্যদের কাছ থেকে তারা পেয়েছিল। ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যায় গাড়িগুলোয় জরুরি চিহ্ন ছিল এবং কর্মীরা ছিলেন উজ্জ্বল প্রতিফলক পোশাক পরিহিত।

সেনারা নিহতদের মরদেহ বালিতে চাপা দিয়েছিল বন্যপ্রাণী থেকে সুরক্ষার জন্য, এমন দাবিও করেন আইডিএফ কর্মকর্তা। তিনি আরো দাবি করেন, রাস্তা পরিষ্কার করতে গাড়িগুলো পরের দিন সরিয়ে মরদেহগুলো কবর দেয়া হয়। পরে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিরাপদ এলাকায় পৌঁছতে না পারায় মরদেহগুলো এক সপ্তাহ পর উদ্ধার হয়। উদ্ধারকারী দল মরদেহগুলো খুঁজে পায়। তারা রাদওয়ানের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করে। সেখানেই ছিল ঘটনার ভিডিও।

এদিকে শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় খান ইউনিস শহরের একটি বাড়িতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৯ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। রাতভর খান ইউনিসে পরিচালিত হামলায় আরো নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হন।