যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির প্রায় সব বিদেশী সহায়তা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও মানবিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যে কোটি কোটি ডলারের সহায়তা অন্যান্য দেশে পাঠাত তা আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। সিদ্ধান্তটির কারণে এরই মধ্যে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বেশ কয়েকটি দেশ বেশ ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। খবর আল জাজিরা।

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয় বলা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিদেশী সহায়তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে মার্কিনদের কোনো ফিরতি পাওয়া না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আর অন্ধভাবে অর্থ বিতরণ করবে না। কঠোর পরিশ্রমী করদাতাদের পক্ষে এমন বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পুনর্বিন্যাস করা শুধু সঠিক কাজই নয়, এটি একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতাও।’

বিশ্বের শীর্ষ দাতা দেশের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছে। বিভিন্ন সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, এ পদক্ষেপের কারণে বিশ্বে অনেক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৮০টি দেশে ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সহায়তা বিতরণ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সহায়তা কর্মসূচি ভালোভাবে কাজ করছে না। সেগুলো বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে হঠাৎ এ স্থগিতাদেশ অনেক মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। কারণ তাদের বেঁচে থাকার জন্য এ সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত কোনো শিশু যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিচালিত কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে যায়, তাহলে তা বন্ধ থাকার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে সে মারা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৩ সালের বিদেশী সহায়তার বড় অংশই অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৯৯০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ইউক্রেন একাই যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কাছ থেকে ১ হাজার ৪৪০ কোটি ডলারের সহায়তা পেয়েছে। ইউক্রেনের পর সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়েছে জর্ডান। ইউএসএআইডির মাধ্যমে পাওয়া এ সহায়তার পরিমাণ ৭৭ কোটি ডলার। ইয়েমেন পেয়েছে ৩৫ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের সহায়তা। অন্যদিকে আফগানিস্তান ৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের সহায়তা পেয়েছে।

খাত বিবেচনায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বিতরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বাস্থ্যসেবায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তায় বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার। এসব সহায়তার পাশাপাশি একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বিভিন্ন মিত্র দেশকে ৮২০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। এর প্রায় অর্ধেকই পেয়েছে ইসরায়েল ও মিসর।