রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত’ পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইউক্রেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আক্রমণ কোন পর্যায়ে বা কোন এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে এ নিয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। খবর বিবিসি।

গতকাল শনিবার (১০ জুন) জেলেনস্কি বলেন, আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক পাল্টা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

দক্ষিণ ও পূর্ব ইউক্রেনে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার মাঝে তিনি এ মন্তব্য করলেন।

ইউক্রেনীয় সৈন্যরা পূর্বে বাখমুতের কাছে ও দক্ষিণে জাপোরিঝিয়ার কাছে অগ্রসর হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা রুশ লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

অবশ্য যুদ্ধক্ষেত্র নিয়ে বরাবরই দুই পক্ষের দাবি বিপরীত। অনেক ক্ষেত্রেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ থাকে না।

গত শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী আক্রমণ শুরু করেছে। ব্যাপক হতাহতসহ তাদের অগ্রগতির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

গতকাল কিয়েভে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। এরপর সংবাদ সম্মেলনে পুতিনের মন্তব্যকে ‘কৌতূহলোদ্দীপক’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় কাঁধ ঝাঁকিয়ে ও ভ্রু উঁচিয়ে এমন ভঙ্গি করেন জেলেনস্কি যেন পুতিনকে চেনেন না। আর জানান, ‘বেশি দিন যে বাকি নেই’ এটা রাশিয়াকে বুঝিয়ে দেয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রুডো এই অঘোষিত সফরে নতুন সামরিক সহায়তা হিসেবে ইউক্রেনকে ২৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইউক্রেনকে ন্যাটো সদস্য করাকে সমর্থন করে কানাডা।

এদিকে গতকাল রাতে রুশ হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওডেসায় তিনজন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হয়েছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী এই বন্দর শহরে একটি আবাসনে ভূপাতিত রাশিয়ান ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে যায়।

ছয় ঘণ্টার এই আক্রমণে আটটি স্থল-ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫টি ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়া। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, তারা ২০টি ড্রোন ও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।