বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়ে দেশের কারাগারগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৫২টি কারাগারে সমীক্ষা শুরু করেছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে প্রথমে কারাগারের নিজস্ব চাহিদা মেটানো হবে। উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। কারা অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রকল্পটি বেসরকারি বিনিয়োগে পরিচালিত হবে।
কারা অধিদপ্তর জানায়, গত ৫ মে প্রিজন ডিরেক্টরেটের সঙ্গে তিনটি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইনজেন টেকনোলজি লিমিটেড, নিউ নেশন সোলার লিমিটেড ও ইমার্জড পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে কারাগারগুলোর নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত অংশ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এতে সরকারের বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশনার আলোকে এ কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগে বাস্তবায়ন হবে। এতে কারাগার বা সরকারের কোনো বিনিয়োগ লাগবে না। এ ধরনের বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে কারাগারগুলোকে আরো উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।
কারাগারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে যুক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইনজেন টেকনোলজি লিমিটেড বাংলাদেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে কাজ করছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যুক্ত আরেক প্রতিষ্ঠান নিউ ন্যাশন সোলার লিমিটেড। কোম্পানিটি ২০১১ সাল থেকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, সাবস্টেশনের নকশা ও স্মার্ট মিটারিং সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের ১৩টি কারাগারে দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তৃতীয় প্রতিষ্ঠান ইমার্জড পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের একটি নবীন প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি প্রধানত বাণিজ্যিক ভবন, পোশাক ও বস্ত্র কারখানার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ করে। পাশাপাশি অন-গ্রিড ও হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থার নকশা, অর্থায়ন ও স্থাপনের কাজও করে প্রতিষ্ঠানটি।
কারাসংশ্লিষ্টরা জানান, কারাগারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ বিল কমবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় ও জিডিপিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য কারাগারেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কারা অধিদপ্তর বা সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। মুভার সোলার অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি লিমিটেড বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে।
বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো ও পরিচালন ব্যয় কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড, জাপান ও ভারতের বিভিন্ন কারাগারে এ ব্যবস্থা ব্যবহারের নজির রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. সাইদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সারা দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৫২টিতে ওপেক্স (সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগে) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কারাগারেও এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে। এ উদ্যোগে নেট মিটারিং গাইডলাইন অনুসরণপূর্বক সম্পূর্ণ স্টোরেজ ব্যাটারিবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত হবে।’










