আশির দশকে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমশক্তির প্রায় ৮০ শতাংশই ছিলেন নারী। রফতানিমুখী এ শিল্পের বিকাশে তাদের অবদানই সবচেয়ে বেশি। তবে চার দশকের ব্যবধানে বদলে গেছে শিল্পের শ্রমবাজারের চিত্র। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, শ্রমিক নিয়োগের ধরনে পরিবর্তন এবং মজুরি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার কারণে এ খাতে বাড়ছে পুরুষ শ্রমিকের অংশগ্রহণ। বিপরীতে কমছে নারীর কর্মসংস্থান। বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও জরিপেও উঠে এসেছে শ্রমশক্তির এ পরিবর্তনের চিত্র।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে নারী ছিলেন প্রায় ৮০ শতাংশ। পরবর্তী দেড় দশকেও এ হার ছিল প্রায় একই। এরপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ। ১৯৯৫ সালে তা নেমে আসে ৭৬ শতাংশে ও ২০০৫ সালে ৭০ শতাংশে। ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকের অংশ ছিল ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
বিজিএমইএর সর্বশেষ ২০২৫-২৬ সালের জরিপেও এ নিম্নগামী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সংগঠনটির পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসনবিষয়ক তথ্য প্রকাশের প্লাটফর্মে প্রকাশিত উপাত্ত অনুযায়ী, জরিপের আওতায় আসা ৩২৬টি কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে নারী ছিলেন ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ। এসব কারখানায় মোট শ্রমিক সংখ্যা ৫ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি। তবে সংগঠনটির ডেটাবেজের হিসাব অনুযায়ী, দেশের পোশাক শিল্পে বর্তমানে শ্রমিকের সংখ্যা ৩৭-৩৮ লাখের মতো। তাদের মধ্যে নারী শ্রমিকের অংশ প্রায় ৬৫ শতাংশ।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্টের (সিইডি) উদ্যোগে পরিচালিত ‘ম্যাপড ইন বাংলাদেশ’ (এমআইবি) প্রকল্পের তথ্যভাণ্ডারেও নারী শ্রমিকের অংশ ৫৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় দেশের ৩ হাজার ৩২০টি রফতানিমুখী পোশাক কারখানার প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিকের তথ্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ১৭ লাখের কিছু বেশি।
সরকারি পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান কমে আসার চিত্র। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সমন্বিত হিসাব বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ পলিসি ল্যাব। তারা দেখিয়েছে, ২০১৬-১৭ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে তৈরি পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার।
অবশ্য বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ, বিজিএমইএর সদস্য কারখানার জরিপ এবং এমআইবি প্রকল্পের তথ্যের আওতা ও বিশ্লেষণ পদ্ধতি এক নয়। ফলে বিভিন্ন উৎসের উপাত্তে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণের হারে পার্থক্য রয়েছে। তবে সবক’টি উৎসেই দীর্ঘমেয়াদে নারী শ্রমিকের অংশ কমে আসার প্রবণতা স্পষ্ট।
পোশাক শিল্পে কেন কমছে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ—এ প্রশ্নের উত্তরে পারিবারিক দায়িত্ব, শিশুযত্নের সংকট, কর্মপরিবেশ, মজুরি ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষক ও খাতসংশ্লিষ্টরা। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও এথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান দেখাশোনা, গর্ভধারণ, বয়স এবং পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারার কারণে অনেক নারী পোশাক শ্রমিক চাকরি ছেড়ে দেন। ২০২২ সালে ৩৩৭টি কারখানা এবং বর্তমান, সাবেক ও সম্ভাব্য নারী শ্রমিকদের ওপর জরিপ ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে পারিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিকেও বড় বাধা হিসেবে দেখছেন শ্রমিক নেতারা। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পোশাক খাতে নারীরা ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণা ও শক্তি। তাদের ঝরে পড়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। নারী শ্রমিকদের কারখানার পাশাপাশি ঘরে গিয়েও কাজ করতে হয়। শিশু দেখাশোনার দায়িত্বও তাদের কাঁধে পড়ে। তাই কারখানার ভেতরে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত শিশুযত্ন কেন্দ্র ও উপযুক্ত পরিবেশ না থাকা নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।’
নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান কমার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার ও অটোমেশন বৃদ্ধি। আগে যেসব কাজে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হতো, সেগুলোর কিছু অংশ এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় সম্পন্ন হচ্ছে। একই সঙ্গে যন্ত্র পরিচালনা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজে দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার মতো প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নারী শ্রমিকরা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগে হেলপার, সুতা কাটাসহ যেসব কাজ শ্রমিক করতেন, সেগুলোর অনেক কিছুই এখন মেশিনে করা হচ্ছে। নতুন নতুন মেশিন আসছে, কিন্তু সেগুলো পরিচালনার জন্য নারী শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে নারী-পুরুষের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করবে, সেটিও নীতিনির্ধারকদের চিন্তায় নেই। বরং প্রযুক্তিকে বৈষম্যমূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে নারী শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত চাকরি হারাচ্ছেন।’
শিল্পের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনকে গ্রহণ করলে এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিও জরুরি বলে মনে করেন শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘শুধু প্রযুক্তি আমদানি করলেই হবে না, সেটি নারীর ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। এক্ষেত্রে মালিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। মেশিন কেনার পর সেটি নষ্ট হলে মেরামত করা হয়, কিন্তু শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানোর পর তার ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টি সেভাবে বিবেচনা করা হয় না।’
তবে প্রযুক্তির পরিবর্তনই নারী শ্রমিকের অংশ কমে যাওয়ার একমাত্র কারণ নয় বলে মনে করছেন পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা। নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার পেছনে অটোমেশনের পাশাপাশি বয়স ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে অনেক নারী শ্রমিক খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না। এছাড়া নির্দিষ্ট বয়সের পর অনেক নারী এ খাতের কর্মসংস্থান ছেড়ে দেন। বিপরীতে পুরুষ শ্রমিকরা তুলনামূলক বেশি বয়স পর্যন্ত কাজ করেন। এ শিল্পের কিছু বিভাগ, বিশেষ করে নিটিং ও ডায়িংয়ে সাধারণত নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ কম। নতুন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি আসার ফলে সোয়েটার ও নিটিং খাতেও নারী শ্রমিকের কাজের সুযোগ সীমিত হচ্ছে। ফলে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান মূলত সেলাই ও ফিনিশিংয়ের মতো বিভাগে কেন্দ্রীভূত থাকছে।’
নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার প্রভাব কর্মসংস্থানের গণ্ডি ছাড়িয়ে তার আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের ওপরও পড়তে পারে। পোশাক শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ হ্রাসকে এক্ষেত্রে অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘একই পরিবারের পুরুষ সদস্য পোশাক শিল্পে কাজ শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রে নারী সদস্যকে এ খাতে কাজের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়। এতে পরিবারের কর্মসংস্থানের সিদ্ধান্তে পুরুষের অগ্রাধিকার তৈরি হচ্ছে। তবে নারীর আয় পরিবারের কল্যাণে ব্যয়ের প্রবণতা বেশি হওয়ায় তাদের কর্মসংস্থান কমে গেলে পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও নারীর ভূমিকা সংকুচিত হতে পারে।’
এদিকে পোশাক শিল্পে পুরুষ শ্রমিকের অংশগ্রহণ বাড়ার পেছনে মজুরি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের অংশ কমে যাওয়ার পেছনে আংশিকভাবে অটোমেশনের প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি এ খাতে মূল মজুরির সঙ্গে ২-৩ ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ, হাজিরা বোনাসসহ অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে শ্রমিকদের আয়ের পরিমাণ বাড়ছে। এতে পুরুষ শ্রমিকদের কাছে পোশাক শিল্পের কর্মসংস্থান আগের তুলনায় বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। অন্য খাত থেকেও পুরুষ শ্রমিকরা এ শিল্পে আসছেন। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তারা তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষতা দেখাতে পারছেন।’
বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, পোশাক শিল্পে বর্তমানে মোট শ্রমিক সংখ্যা ৩৭-৩৮ লাখ। তাদের মধ্যে নারীর অংশ প্রায় ৬৫ শতাংশ। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘নারী শ্রমিকের অংশ কমে আসা নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে ইতিবাচক নয়। কেননা পুরুষদের কর্মসংস্থানের বিকল্প সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা সীমিত।’
অনেকেই মনে করেন, নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় পোশাক খাতের শ্রমে দিন দিন অসন্তোষ বাড়ছে। কারখানা মালিকদের মতে, শ্রম অসন্তোষে পুরুষ শ্রমিকদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি। কিছু কারখানায় পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ পাওয়া শ্রমিকদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ শ্রমিকরা অনেক সময় প্রতিবাদ করতে পারেন না। কারখানায় অস্থিরতা ও উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্নের প্রভাব নারী শ্রমিকদের ওপরও পড়ে।
তবে নারী শ্রমিক নেতাদের মতে, উৎপাদন লাইনে নারীদের উপস্থিতি থাকলেও সুপারভাইজারসহ উচ্চতর পদে তাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে ওঠার সঙ্গে এ বৈষম্য আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় নারী শ্রমিকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, মানসম্মত শিশুযত্ন কেন্দ্র ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ কমে আসার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। পারিবারিক দায়িত্ব ও শিশুযত্নের সংকট, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, মজুরি ও আর্থিক সুবিধার পার্থক্য, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগের ঘাটতি—সবকিছুই এ প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত। উৎপাদন ব্যবস্থা যত প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে, ততই নারী শ্রমিকদের নতুন দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানে টিকে থাকার সুযোগ বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠছে। তা না হলে দেশের প্রধান রফতানি খাতে নারীর দীর্ঘদিনের অবদান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সুযোগ আরো সংকুচিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রযুক্তির পরিবর্তনের পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার চাহিদাও নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের অনুপাত বদলে দিচ্ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘পোশাক শিল্পে মজুরি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ শ্রমিকদের কাছে এ খাত কর্মসংস্থানের আকর্ষণীয় উৎস হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি শিল্পটি ক্রমেই পুঁজিঘন ও প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে। পরিবেশ, বিদ্যুৎ ও বিভিন্ন ধরনের সনদায়নের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে কারখানার উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মালিকরা উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমার পর্যবেক্ষণ হলো প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং উৎপাদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারখানাগুলোয় পুরুষ শ্রমিকের নিয়োগ বেড়েছে। পুরুষদের গড় শিক্ষাগত যোগ্যতা নারীদের তুলনায় বেশি হওয়ায় নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।’
এনামুল হক বলেন, ‘প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার পরিবর্তনে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। এক দশক আগের তুলনায় এখন কোনো কোনো পণ্যের উৎপাদন প্রায় চার গুণ, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তারও বেশি হয়েছে বলে তার পর্যবেক্ষণ। তবে উৎপাদন বাড়লেই শ্রমিকের মজুরি একই অনুপাতে বাড়বে, এমন নয়।’










