অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি কখনোই বেশি ছিল না-
এমন ধারণা করা একটি আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে রয়েছে ইতালির প্রায় ৫ লাখ মানুষ।
সম্প্রতি এক গবেষণা থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
গতকাল শুক্রবার (৯ জুন) নেচারস কমিউনিকেশনস
আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, আগ্নেয়গিরির কিছু অংশ
প্রায় সহনসীমা অতিক্রমের পথে হয়েছে।
প্রলয়ংকরী পরিস্থিতির জন্ম দেয়া ভিসুভিয়াসের
চেয়ে কম পরিচিত ক্যাম্পি ফ্লেগ্রেই আগ্নেয়গিরিটি। কিন্তু গবেষণার সহ-লেখক স্টেফানো
কার্লিনো বলেন, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
প্রায় দুই হাজার বছর আগে পম্পেই নগরীকে
মানচিত্র থেকে মুছে ফেলেছিল ভিসুভিয়াস। সে তুলনায় বিস্তৃত ক্যাম্পি ফ্লেগ্রেইর হাজার
বছরের ইতিহাস সাদামাটা। সর্বশেষ ১৫৩৮ সালে এর পেট থেকে লাভা, ছাই ও শিলা উদগীরণ হয়েছিল।
গবেষকরা বলছেন, ক্যাম্পি ফ্লেগ্রেই পুরোপুরি
হালকাভাবে নেয়ার মতো নয়। ৩০ হাজার বছর আগে এর অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে নিয়ান্ডারথাল
মানুষের বিলুপ্তির সম্পর্ক রয়েছে।
আগ্নেয়গিরিটিকে কম বিপজ্জনক মনে করা হতো।
এর কারণ হতে পারে ১২-১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এর বিস্তৃতি। যা এর চাপকে মৃদৃ করে দেয়।
এর আগে ১৯৮০ এর দশকের শুরুর দিকে অগ্ন্যুপাতের লক্ষণ দেখা গেলে ৪০ হাজারের মতো বাসিন্দাকে
সরিয়ে দেয়া হয়। তারপর থেকে তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ইউনিভার্সিটি কলেজ
লন্ডনের ক্রিস্টোফার কিলবার্ন বলেছেন, আমরা বলছি না যে অগ্ন্যুৎপাত হবে। শুধু বলছি
অগ্ন্যুৎপাতের জন্য পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনুকূল।
১৯৫০ সাল থেকে এ অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছে হাজার
হাজার ছোট ভূমিকম্প। যা পুরো এলাকায় ভূ-ত্বকের গঠনে পরিবর্তন এনেছে। আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণকে
অনুকূল করে দিয়েছে।
গবেষকরা পদার্থবিদ্যার ওপর ভিত্তি করে
একটি মডেল ব্যবহার করেছেন। তারা দেখেছেন, কীভাবে শিলা ভেঙে যায় ও আগ্নেয়গিরির ওপর
তেমন চাপ প্রয়োগ করে। এছাড়া কম্পন ও স্থলভাগের নড়াচড়া পরিমাপ করেছেন। একই ধরনের
আগ্নেয়গিরির পূর্ববর্তী অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গেও তুলনা করেছেন।
ইতালির সিভিল প্রোটেকশন এজেন্সি এলাকাটির যে অংশকে রেড জোন বা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেখানে পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। নিচের ধাপ ইয়েলো জোনে বসবাস করে আট লাখ মানুষ।










