ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গাজার আবাসন পরিস্থিতি ধংস হয়ে গেছে। বিশেষ করে গাজার অধিবাসীরা ঘরছাড়া হওয়ার পর থেকে উন্মুক্ত আকাশের নিচেই অবস্থান করছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
জাতিসংঘের মানবিক কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী (ওসিএইচএ), সাম্প্রতিক দিনগুলোয় গাজার দক্ষিণে মিসরের সীমান্তবর্তী রাফায় কমপক্ষে এক লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে।
ইউএনআরডব্লিউএর কর্মকর্তা জুলিয়েট টউমা জানান, গাজার শরণার্থীদের সহায়তার জন্য জাতিসংঘকে সীমিত অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু গাজায় মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা গুরুতর পর্যায়ে চলে গেছে। তিনি বলেন, ‘গাজার যেসব অঞ্চলে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, সেসব জায়গায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ইউএনআরডব্লিউএ বাধার মুখে পড়ছে।’ এ বিষয়ে ইসরায়েল জানায়, তারা সহায়তায় কোনো বাধা দিচ্ছে না। মূল সমস্যা হচ্ছে বিতরণে।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয় ইসরায়েল। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণের পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ২১ হাজার ৬৭২ জন প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া আরো ৫৬ হাজার ১৬৫ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় দেশটির ১ হাজার ২০০ নাগরিক নিহত হয়েছে এবং ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সামরিক অভিযানের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার উত্তরে অগ্রসর হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি দক্ষিণ গাজায় খান ইউনিসে বেশি আক্রমণ চালাচ্ছে। তাদের মতে, এটি হামাসের শক্ত ঘাঁটি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে জানান, ইসরায়েল সব দিক থেকেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনে বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ফলে সেখানকার ৭০ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দেশটির সরকারি মিডিয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েলি বোমা হামলায় ২০০-এর বেশি ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ধ্বংস হয়ে গেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনে থাকা ৪ লাখ ৩৯ হাজারের মধ্যে তিন লাখের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফিলিস্তিনের আবাসিক এলাকা, বাইজেন্টাইন গির্জা, হাসপাতাল, শপিংমলসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় ২৯ হাজারের বেশি বোমা বর্ষণ করা হয়েছে এবং এসব স্থাপনা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো আর মেরামত করা যাবে না।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট পেপ বলেন, ‘ইতিহাসে জার্মানির ড্রেসডেনসহ যেসব শহর বোমা বর্ষণের কারণে বিলীন হয়ে গেছে সে তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে গাজা।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সবচেয়ে মারাত্মক হিসেবে আখ্যা পেয়েছে। ফলে সাড়ে ২১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও ৫৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। এছাড়া ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া হামলায় আহত হওয়া এক হাজারের বেশি শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে।










