সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানালেন প্যারিসে
ট্রাফিক পুলিশের গুলিতে নিহত নাহেলের নানী নাদিয়া। ফরাসি মিডিয়া বিএফএম টিভিকে দেয়া
সাক্ষাৎকারে পরিবারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। ঘোষণাটি এমন সময় এলো, যখন ফ্রান্স
টানা ষষ্ঠ রাতের মতো অস্থিতিশীল। খবর রয়টার্স।
নাদিয়া দাবি করেছেন, নাহেলের মৃত্যুকে
উপলক্ষ করে ফ্রান্স জুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। তার পরিবার শান্তি চায়। বিক্ষোভকারীদের
শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নাহেল মারা গেছে।
আমার মেয়েটা শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে।’
পুলিশের আরো উন্নত প্রশিক্ষণ, অস্ত্র বিষয়ক
নীতি, ট্রাফিক আদেশে গাড়ি না থামালে গুলির মতো আইন পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে নিহতের
পরিবার। সঙ্গে বলা হয়, এখন যা হচ্ছে সব নাহেলের জন্য নয়। তার পরিবার ভাংচুর বা দাঙ্গায়
জড়াতে বলেনি কাউকে। এর বদলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানানো হয়।
প্যারিসে ট্রাফিক পুলিশের গুলিতে নাহেলের
মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল ফ্রান্স। ২০১৮ সালে সংঘটিত ইয়োলো ভেস্ট আন্দোলনের পর এবার সবচেয়ে
অস্থিতিশীল সময় পার করছে দেশটি। মোতায়েন করা হয়েছে ৪৫ হাজার পুলিশ।
পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কয়েক
দফা সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা ঝিমিয়ে এলেও এখনো শেষ হয়নি।
এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ
জার্মানি সফর স্থগিত করেছেন।
গত ২৭ জুন প্যারিসের নানতেরে এলাকায় ১৭
বছরের নাহেলের গাড়িকে থামাতে বলে ট্রাফিক পুলিশ। গাড়ি না থামলে তাকে গুলি করে পুলিশ।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ তার গাড়ি লক্ষ্য করে
বন্দুক তাক করে আছে। বুকে গুলিবিদ্ধ নাহেলকে পরবর্তীতে জরুরি চিকিৎসা দেয়া হলেও বাঁচানো
যায়নি। অভিযুক্তকে আটকও করা হয়েছে।
ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতিকে দীর্ঘদিন
ধরে চলে আসা বৈষম্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। নাহেলের মৃত্যু
যাতে ইন্ধন জুগিয়েছে মাত্র। এছাড়া বর্ণবাদ নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে নতুন করে। এর আগে
দেশটিতে অবসরের সময় বাড়ানো নিয়ে টানা বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।










