এক সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষে গত শুক্রবার থেকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। একের পর এক বিমান হামলা চালানো হচ্ছে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস গতকাল জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অঞ্চলটিতে সাত শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। খবর আল-জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স।

গত ৭ অক্টোবর নতুন করে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে উপত্যকার ১৫ লাখ মানুষ। একই সময়ে নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু।

নতুন করে গাজার দক্ষিণাঞ্চলকে টার্গেট করছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ দফার আগ্রাসনের শুরুর দিকে সবচেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছিল গাজার উত্তরাঞ্চলে। তখন সাধারণ মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিল আইডিএফ। এখন এ দক্ষিণাঞ্চলেই তাণ্ডব শুরু করেছে তারা। নারী-শিশুদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। গাজার খান ইউনিস সংলগ্ন কিছু এলাকার বাসিন্দাদেরও অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আইডিএফ।

ফিলিস্তিনের প্রিজনারস সোসাইটি জানিয়েছে, গত শনিবার রাতভর পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় অন্তত ৬০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে তারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গাজায় সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী যেসব হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, সেগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার পরিণতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসাইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান জোসেফ ব্যারেলের সঙ্গে ফোনালাপে শনিবার এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘‌ইসরায়েল যদি ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ বন্ধ না করে তাহলে এ যুদ্ধ গভীর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেবে।’

গাজায় ইসরায়েল হামলা শুরুর পর থেকে ইরানপন্থি লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যে এ অঞ্চলের নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল। এছাড়া ইসরায়েলের এ হামলায় লেবাননের এক এমপির ছেলেও নিহত হয়েছেন। 

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণহত্যা চালানোর দায়ে ইসরায়েলকে শাস্তির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) সম্ভাব্য সবকিছু করার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন তিনি।

এরদোগান বলেন, ‘‌আমরা এ গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরায়েলকে শাস্তি আওতায় আনতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এটি শুধু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের জন্যই নয়, যে দেশগুলো ইসরায়েলকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন করে চলেছে তাদের জন্যও একটি কালো অধ্যায়। ভবিষ্যতে তাদের এ নীরবতার জন্যও মূল্য দিতে হবে। বিশ্ব এ উদাসীনতার কথা ভুলে যাবে না।’

এদিকে গাজায় এবার গোয়েন্দা ড্রোন উড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামাসের কাছে বন্দিদের ঠিকানা খুঁজে বের করতে গাজার আকাশে এ ড্রোন পরিচালনা করা হবে। এসব ড্রোন হামাসের হাতে বন্দিরা কোথায় রয়েছে সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য জানাতে সাহায্য করবে। গাজায় পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সেখানে সব মিলিয়ে কতজন বন্দি রয়েছে তা জানায়নি মন্ত্রণালয়।