থাইল্যান্ডের সঙ্গে কম্বোডিয়ার পুরনো সীমান্ত বিরোধ নতুন করে চরমে উঠেছে। সংকট সমাধানে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে কম্বোডিয়া। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে দুই প্রতিবেশী দেশই। খবর রয়টার্স।

উত্তেজনার শুরু গত ২৮ মে। সেদিন ৮২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের একটি অনির্ধারিত অংশে সংঘর্ষে জড়ায় দুই দেশের সেনারা। এতে এক কম্বোডীয় সৈন্য নিহত হন। এ ঘটনার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া।

রোববার কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, ‘কম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। সে কারণেই আইসিজের মাধ্যমে এ বিরোধ নিষ্পত্তির পথ বেছে নিয়েছে।’ পোস্টে দেখা যায়, উপপ্রধানমন্ত্রী প্রাক সোখোন একটি খাম ধরে আছেন, যেটিকে প্রধানমন্ত্রী আইসিজের কাছে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে থাইল্যান্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে অতীতে ব্যাংকক জানিয়েছে, সীমান্ত সংকট সমাধানে তারা আইসিজের এখতিয়ার স্বীকার করে না। সেই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ছাড়া কোনো সমাধানেও যেতে চায় না।

সপ্তাহান্তে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হলেও তাতে কোনো সমাধান আসেনি। উভয় পক্ষ উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বৈঠকের বিষয়ে এক বিবৃতিতে কম্বোডিয়া জানিয়েছে, তারা প্রস্তাব দিয়েছে যেন দুই দেশ চারটি বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চল একসঙ্গে আইসিজেতে তোলে।

এসব অঞ্চল ভবিষ্যতের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা থেকে বাদ দেয়ারও প্রস্তাব করেছে তারা। তবে থাইল্যান্ড এসব অঞ্চলের বা আইসিজে প্রসঙ্গে কিছু উল্লেখ না করে শুধু জানিয়েছে যে উভয় দেশ সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা ও যৌথ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে। আগামী সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেন, ‘এ চার সীমান্ত অঞ্চল জটিল, এখানে সংঘাতের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থায় এগুলোর সমাধান সম্ভব নয়।’ তবে তিনি আবেদনপত্রের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

এর আগে ১৯৬২ ও ২০১৩ সালে প্রোহ ভিহেয়ার মন্দির ও তার আশপাশের এলাকা নিয়ে বিরোধে কম্বোডিয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে আইসিজে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনে দেশ দুটির মধ্যে আলোচনা চালাচ্ছে। এ আলোচনার মধ্যেই সীমান্ত ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছে থাইল্যান্ড। জবাবে থাইল্যান্ড থেকে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ও কৃষিপণ্য আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কম্বোডিয়া। সেই সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়েছে থাই সিনেমা সম্প্রচার।