লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে হুথিদের আক্রমণের আশঙ্কা কমে এসেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মিসরের সুয়েজ খাল রুটের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সিএমএ সিজিএম। সম্প্রতি ইয়েমেনভিত্তিক বিদ্রোহীরা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের ইঙ্গিত দেয়। এর পরই ফরাসি কনটেইনার শিপিং কোম্পানিটি নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায়। এ পদক্ষেপ লোহিত সাগর রুটে ধাপে ধাপে যাতায়াতের স্বাভাবিক গতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অভিমত খাতসংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের। খবর এফটি।
সিএমএ সিজিএমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, কোম্পানির ইন্ডিয়া আমেরিকা এক্সপ্রেস (ইনডামেক্স) পরিষেবা সুয়েজ খাল ব্যবহার করে ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে যাতায়াত করবে। প্রথম জাহাজটি আগামী মাসে করাচি থেকে রওনা দেবে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কয়েক মাস ধরে রিটার্ন ট্রিপ পরিহার করে আসছিল সিএমএ সিজিএম।
দুই বছর ধরে হুথি হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী শিপিং লাইনগুলো লোহিত সাগর এড়িয়ে চলাচল করছে। গাজায় হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত জাহাজে গোষ্ঠীটি আক্রমণ শুরু করলে রুটটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে অনেক জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যেতে হয়েছে। ফলে পণ্য সরবরাহের সময় ও পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিএমএ সিজিএমের নতুন সিদ্ধান্তটি উল্লেখযোগ্য হলেও পুরো শিল্পের রূপান্তরের ইঙ্গিত নয়।
মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জেনেটার প্রধান বিশ্লেষক পিটার স্যান্ড বলেন, ‘অন্যান্য কোম্পানি প্রয়োজনমাফিক লোহিত সাগর দিয়ে যাতায়াত করেছে। কিন্তু সিএমএ সিজিএম উভয় দিকের জন্য ইনডামেক্স পরিষেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’
সাম্প্রতিক তথ্যও ইতিবাচক চিত্র দেখাচ্ছে। বাব-এল-মানদেব প্রণালি দিয়ে গত মাসে পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের তুলনায় তা অর্ধেক।
লোহিত সাগর থেকে সুয়েজ খাল ব্যবহারে সম্প্রতি জাহাজের বীমা খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আন্তর্জাতিক বীমা ও ঝুঁকিবিষয়ক পরামর্শক কোম্পানি মার্শের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরের জন্য যুদ্ধবীমার হার ৭০ শতাংশ কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরো কমানোর জন্য এ রুটজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রয়োজন।
সিএমএ সিজিএমের এমন পদক্ষেপ সত্ত্বেও বিশ্বের দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক কনটেইনার শিপিং কোম্পানি মায়েরস্ক ও হাপাগ-লয়েড এখনো সতর্কতা অবলম্বন করছে। মায়েরস্কের সিইও ভিনসেন্ট ক্ল্যার্ক বলেন, লোহিত সাগর রুটে ফেরার প্রক্রিয়া ‘ধাপে ধাপে’ সম্পন্ন হবে। হাপাগ-লয়েড আশা করছে, সম্পূর্ণ রূপে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৬০-৯০ দিন সময় লাগবে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, দ্রুত সব কোম্পানির একসঙ্গে লোহিত সাগরে ফেরার ফলে ইউরোপের বন্দরে ব্যাপক জট সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে শিপিং খাত ঝুঁকি, খরচ ও নিরাপত্তার ভারসাম্য নিয়ে কাজ করছে, যেন লোহিত সাগরে সাধারণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যায়।










