গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গত চারদিনে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ পেরিয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ২০০ শিশু রয়েছে বলে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে। গতকাল চতুর্থ দিনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় স্থল অভিযান শুরু করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গাজা উপত্যকার ভূমি দখলের হুমকি দিয়েছেন। এদিকে ২০২৩ সালে হামাসের হামলা ঘিরে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইসরায়েল সিকিউরিটি এজেন্সি (আইএসএ) বা শিন বেতের প্রধান রোনেন বারকে বরখাস্ত করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত তিনদিনে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইউনিসেফের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২০০ শিশু রয়েছে। গতকাল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় ভূমি অভিযান শুরু করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরো তীব্র করা হবে এবং সব ধরনের সামরিক ও বেসামরিক চাপ প্রয়োগ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে গাজাবাসীকে দক্ষিণে সরিয়ে নেয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বেচ্ছা অভিবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
কাৎজ সেনাবাহিনীকে গাজায় অতিরিক্ত এলাকা দখল, জনগণকে সরিয়ে নেয়া এবং ইসরায়েলি সম্প্রদায় ও সেনাদের সুরক্ষার জন্য গাজার চারপাশে নিরাপত্তা অঞ্চল সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।
দ্য জেরুজালেম পোস্ট পত্রিকা কাৎজকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, হামাস যদি জিম্মিদের মুক্তি দিতে অস্বীকার করে, তাহলে তারা আরো বেশি ভূমি হারাবে, যা ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। যদি জিম্মিরা মুক্তি না পায়, ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় আরো বেশি ভূমি স্থায়ী নিয়ন্ত্রণে নেবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে অঞ্চলে ইসরায়েলের সেনা অভিযান চালাচ্ছে, তার নাম নেটজারিম করিডোর। এ করিডোরই গাজাকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করে। গাজায় আক্রমণ চালানোর সময় ইসরায়েল এ অঞ্চল দখল করেছিল। কিন্তু সংঘর্ষ-বিরতি চুক্তির সময় সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নেয় তারা। এবার আবার সেখানে সেনা মোতায়েন করল ইসরায়েল, যা সংঘর্ষ-বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে।
এদিকে ২০২৩ সালে হামাসের হামলার জেরে শিন বেতের প্রধান রোনেন বারকে গ্রেফতার করেছেন নেতানিয়াহু। রোনেন বারের ব্যর্থতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ক’দিন আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এ শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলো। ২০২১ সালের অক্টোবরে পাঁচ বছরের জন্য শিন বেতের প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন রোনেন বোর। সেই মেয়াদ শেষের আগেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্তের অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা বৈঠক করে। মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয় এবং আগামী ১০ এপ্রিল তার দায়িত্ব শেষ হবে বলে সিদ্ধান্তও জানায়।
রোনেন বারকে বরখাস্তের পর নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ আরো জোরদার হয়েছে। গতকাল বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জেরুজালেম ও তেলআবিব থেকে অন্তত ১২ বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। আয়োজকদের দাবি, বিক্ষোভ কর্মসূচি যেভাবে গতি পাচ্ছে তাতে আগামী দিনগুলোয় আরো বেশি বিক্ষোভ হতে পারে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান রোনেন বারকে বরখাস্তে নেতানিয়াহুর প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ফের হামলা বিক্ষোভকে আরো জোরালো করেছে।
যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক এলিয়াস শারাগা সিএনএনকে বলেছেন, গাজায় আবার আগ্রাসন শুরু করার প্রধান লক্ষ্য নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকা। নেতানিয়াহু আসলে দুর্নীতির বিচার থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। শারাগা আরো বলেন, নিজেকে বিচারের হাত থেকে বাঁচাতে তিনি গাজায় আটক জিম্মিদের জীবনকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। অথচ যুদ্ধবিরতি চালিয়ে গেলে তাদের মুক্ত করে আনা সম্ভব হতো।










