অভিবাসন নীতি নিয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে একমত হতে পারেনি নেদারল্যান্ডস সরকার। বিষয়টির জেরে দেশটির সরকারের পতন ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।

রক্ষণশীল ভিভিডি পার্টি দেশটিতে অভিবাসীর স্রোতে লাগাম টানতে চান। তবে সেখানে চারদলীয় জোটের শরিক দুটি দলই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। সাক্ষাৎকারী প্রধানমন্ত্রী রুট বলেন, ‘‌অভিবাসন নীতি নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে সমোঝতা হয়নি। আমাদের বলতেই হচ্ছে, এখানে সমঝোতায় পৌঁছা অসম্ভব। ফলে আমি মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েই রাজার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেব।’

টানাপড়েন শুরু হয় মূলত সপ্তাহ খানেক আগে। রুট একটা প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যেখানে যুদ্ধে শরণার্থীদের প্রবেশকে সীমায়িত করা হবে। শিশুদের তার পরিবারের সঙ্গে একত্র হতে অন্তত দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবের সঙ্গে অসম্মতি জানায় জোটের দুই শরিক দল। 

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নেদারল্যান্ডসে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হওয়ার আগপর্যন্ত রুটের জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করতে থাকবে। ৫৬ বছর বয়সী মার্ক রুট নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী। ২০১০ সালের পর চতুর্থবারের মতো তিনি ২০২২ সালে পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণ করেন। 

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নেদারল্যান্ডসের অভিবাসন নীতি তুলনামূলকভাবে কঠিন। তার পরও নতুন সরকারের আমলে নীতিমালা আরো কঠিন করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে নানা সমস্যায় পড়ে অনেকেই আসছে নেদারল্যান্ডসে। যুদ্ধে ক্লান্ত ইউক্রেন থেকেও অনেকে চলে আসছে। আবার উত্তর আফ্রিকা থেকেও প্রচুর শরণার্থী চলে আসছে নেদারল্যান্ডসে। এভাবে স্রোতের মতো শরণার্থী এলে সমস্যা বাড়বে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। অভিবাসন নীতি নিয়ে কী সিদ্ধান্তে আসবে দেশ, তা নিয়েই মতবিরোধ চরমে। এবার সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হবে সেটাই এখন দেখার।