গায়ানার তেল-সমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চলকে
অনেকদিন ধরেই নিজেদের দাবি করে আসছে ভেনেজুয়েলা। এ দাবিকে আরো জোরালো করার লক্ষ্যে
সম্প্রতি গণভোটের আয়োজন করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে জানা
গেছে, ভোটাররা ব্যালটে পাঁচটি প্রশ্নের প্রতিটিতে ৯৫ শতাংশেরও বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে।
খবর সিএনএন।
এত বেশি সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও ভেনিজুয়েলার
নিকোলাস মাদুরো সরকার নিজেদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য কী পদক্ষেপ নেবে তা স্পষ্ট নয়।
ভেনেজুয়েলা ১৮১১ সালে স্পেনের কাছ
থেকে স্বাধীনতা পায়। এর পর থেকে তেল-সমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চলটি দাবি করে আসছে। তাদের
অভিযোগ দেশটির সীমানা আন্তর্জাতিক যোগসাজশে অন্যায়ভাবে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশের নতুন এই উদ্যোগকে সংযুক্তির
দিকে আরেকটি পদক্ষেপ ও অস্তিত্বের হুমকি বলে অভিহিত করেছে গায়ানা।
গত সপ্তাহে গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান
আলী এসেকুইবো ভ্রমণ করেন। ওই সময় তিনি সেনাবাহিনীর স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং ভেনেজুয়েলার
সীমান্তের একটি পাহাড়ে নিজেদের পতাকা উত্তোলন করেন।
ভোটাভুটি বিষয়ে আগে থেকেই আন্তর্জাতিক
মহল সতর্কভাবে নজর রাখছিল। হেগের আন্তর্জাতিক আদালত গত সপ্তাহে এক রায় বলেছিল, বিরোধপূর্ণ
অঞ্চলটিতে বিরাজমান বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তন আনবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত
থাকবে ভেনেজুয়েলা। ট্রায়ালের আদেশও দিয়েছে আদালত।"তবে ভেনেজুয়েলা এ বিষয়ে আদালতের
এখতিয়ার স্বীকার করে না।
ভোটের ফলাফল ভেনেজুয়েলায় ব্যাপকভাবে
প্রভাব ফেলেছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, গায়ানার এক-তৃতীয়াংশ দখল করে থাকা অঞ্চলটি ভেনেজুয়েলায়
অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তেমন একটা নেই।
ভেনেজুয়েলা সরকার ফলাফল অনুসরণ করার
জন্য কী পদক্ষেপ নেবে তা স্পষ্ট নয়। দাবি জাহির করার যেকোনো প্রচেষ্টা অবশ্যই আন্তর্জাতিক
প্রতিরোধের মুখোমুখি হবে।
গায়ানা ও ভেনেজুয়েলা উভয়ই সাম্প্রতিক
সপ্তাহগুলোতে তাদের সীমান্তে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। ব্রাজিলও সপ্তাহান্তে তার জঙ্গল
সীমান্তে সেনা পাঠিয়েছে। দেশটির আশঙ্কা ভোটের কারণে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।










