যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি, মিসৌরি ও ভার্জিনিয়া রাজ্যে টর্নেডো ও ঝড়বৃষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৮ জন। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত চলা এই ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেনটাকি রাজ্য। সেখানে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের লরেল কাউন্টিতে ১৯ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। খবর এপি।
টর্নেডোতে কয়েকশ’ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, উল্টে পড়েছে বহু যানবাহন, অনেকেই হয়েছেন ঘরছাড়া। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে নিজেদের জিনিসপত্র উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন, আর সামনে আরও ঝড় আসার আশঙ্কায় রয়েছেন উৎকণ্ঠায়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের মধ্যাঞ্চলে আরো কয়েকদিন ধরে বজ্রঝড়, ভারি বৃষ্টিপাত ও নতুন করে টর্নেডো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার (১৮ মে) টেক্সাসের মিংগাস শহরের কাছে একটি বিপজ্জনক ও বড় আকারের টর্নেডোর খবর পাওয়া যায়, যেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মিলেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় শেরিফের দপ্তর।
ক্যানসাস, ওকলাহোমা ও নেব্রাস্কার কিছু অংশে বড় আকারের শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, যেগুলোর আকার টেনিস বলের সমান হতে পারে। পাশাপাশি মিসৌরি ও ক্যানসাসেও ঘণ্টায় ৯৭ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
রোববার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুরু হয়েছে এবং ফেডারেল দুর্যোগ সহায়তার জন্য আবেদন প্রস্তুত করছে কেনটাকি রাজ্য। গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার জানিয়েছেন, আরো একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে রাসেল কাউন্টিতে। ঝড়ে আহত অন্তত ১০ জনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঝড়ে রাজ্যের প্রায় ২৪টি সড়ক আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর গড়ে ১,২০০টির মতো টর্নেডো হয় এবং সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই টর্নেডোর প্রভাব পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, আগের তুলনায় এখন তুলনামূলক বেশি ঘনবসতিপূর্ণ ও গাছপালায় ঘেরা মধ্য-দক্ষিণ অঞ্চলে টর্নেডোর সংখ্যা বাড়ছে। আগে মূলত ‘টর্নেডো অ্যালি’ নামে পরিচিত ওকলাহোমা, ক্যানসাস ও টেক্সাসেই এসব ঝড় বেশি হতো।
মিসৌরির সেন্ট লুইসের মেয়র কারা স্পেন্সার জানিয়েছেন, শহরটিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩৮ জন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫,০০০টির বেশি ঘরবাড়ি।
মিসৌরির দক্ষিণাঞ্চলীয় স্কট কাউন্টিতে একটি টর্নেডোতে আরো দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন এবং অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন শেরিফ ডেরিক হুইটলি।











