ইউক্রেনের জন্য ড্রোন উৎপাদনকারী যুক্তরাজ্যের কারখানাগুলোতে অজ্ঞাত উৎস থেকে আধা-সামরিক ধরনের হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ক্রেমলিনের উপদেষ্টা আন্দ্রেই ফেদোরভ। ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদানের নকশা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এমন হামলা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিবিসির নিউজনাইটকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফেদোরভ বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার জন্য গুরুতর চাপ রয়েছে। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, এ চাপ কোথা থেকে আসছে। জবাবে ফেদোরভ বলেন, জনমত জরিপ থেকে, সাংবাদিকদের কাছ থেকে, গণমাধ্যম থেকে।
‘আধা-সামরিক’ হামলা কেমন হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ফেদোরভ বলেন, ইউক্রেনের জন্য ড্রোন তৈরি করা প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় হামলা হতে পারে। তবে এসব হামলা রাশিয়া নয়, ‘অজ্ঞাত উৎস’ থেকে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফেদোরভের এ মন্তব্যের আগে সোমবার যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেন, ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা দেয়ার সিদ্ধান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে ‘সামান্যতম অগ্রগতিও’ বাধাগ্রস্ত করেছে। রুশ সামরিক বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংসের জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও জানান পেসকভ।
যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের ব্রিটিশ তৈরি উপাদানের নকশা দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ফ্রান্সের তৈরি স্ক্যাল্প হলো যুক্তরাজ্যের স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ফরাসি সংস্করণ। এসব নকশা ব্যবহার করে ইউক্রেন নিজ দেশেই দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎপাদন করতে পারবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম আগামী মাসে ইউরোপের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরার কথা রয়েছে। তবে সফরের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি বলে জানান তিনি।
সোমবার ইউক্রেন সফরের পর বার্নহাম বলেন, রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিয়েভে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্যোগে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে আসায় দেশটির ঝুঁকি বাড়ছে। ইরানে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউক্রেন রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়টের ঘাটতিতে পড়েছে। শীতের আগে ৩০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের আশা প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি।
বার্নহাম বলেন, প্যাট্রিয়ট সরবরাহের বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি ‘খুবই আত্মবিশ্বাসী’। তবে এর জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশকেও সম্পৃক্ত করতে হবে বলে জানান তিনি।
ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বার্নহাম, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এক যৌথ বিবৃতিতে কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করাকে ‘জরুরি অগ্রাধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের শহর, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানান তারা।










