দাসপ্রথায় ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততা ও এর বিদ্যমান
প্রভাবের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ডাচ রাজা উইলেম-আলেকজান্ডার। আমস্টারডামে ক্যারিবীয় অঞ্চলের
সাবেক উপনিবেশসহ নেদারল্যান্ডসে এ প্রথার আইনি বিলোপের ১৬০তম বার্ষিকীতে পূর্বপুরুষদের
কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
গতকাল শনিবার (১ জুলাই) আবেগঘন বক্তৃতায়
রাজা বলেন, এই দিনে আমরা দাসপ্রথায় ডাচ ইতিহাস স্মরণ করি, আমি মানবতার বিরুদ্ধে এই
অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের রাজা ও সরকারের একজন সদস্য হিসেবে আমি
নিজেই ক্ষমা চাইছি। আমি আমার হৃদয় ও আত্মায় এর ভার অনুভব করি।
আরো বলেন, ডাচ সমাজে বর্ণবাদ এখনো একটি
সমস্যা। সবাই ক্ষমা প্রার্থনাকে সমর্থন করবে না। কিন্তু সময় পরিবর্তিত হয়েছে ও শিকলগুলো
সত্যিই ভেঙে গেছে।
এ সময় ওস্টারপার্কে কুখ্যাত প্রথার স্মরণে
নির্মিত জাতীয় স্তম্ভের পাদদেশে হাজার হাজার শ্রোতা করতালিতে রাজাকে সমর্থন জানান।
১ জুলাইকে দাসপ্রথার স্মরণ ও স্বাধীনতার
উদযাপনের দিন হিসেবে পালন করে নেদারল্যান্ডস। দিনটিকে ‘কেতি কোটি’ নামে ডাকা হয়।
সুরিনামি এই শব্দের অর্থ ‘শিকল ভেঙে গেছে’।
১৮৬৩ সালের ১ জুলাই সুরিনাম ও ক্যারিবীয়
অঞ্চলের ডাচ উপনিবেশে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু অনেক ক্রীতদাস আরো এক দশক ধরে
বাগানে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।
এর আগে ২০২০ সালে ডাচ ঔপনিবেশিক সময়ে ‘অতিরিক্ত সহিংসতার’ জন্য ইন্দোনেশিয়ার
কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন উইলেম-আলেকজান্ডার।
গত ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট
স্বীকার করে নেন, ট্রান্স-আটলান্টিক দাস ব্যবসায় ডাচদের দায় আছে। এর থেকে তারা লাভবান
হয়েছিল। তিনি ক্ষমা প্রার্থনাও করেন। তবে এও বলেছেন, ২০২১ সালে একটি উপদেষ্টা প্যানেলের
সুপারিশ করলেও তার সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে না।
গত বছর নেদারল্যান্ডসের দাসপ্রথায় রাজকীয়
ভূমিকা নিয়ে একটি গবেষণা শুরু করেছেন রাজা উইলেম-আলেকজান্ডার। এর ফলাফল ২০২৫ সালে
প্রকাশ হবে।
গত মাসে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা
গেছে, রাজকীয় হাউস অব অরেঞ্জ ১৬৭৪ থেকে ১৭৭০ সাল পর্যন্ত ডাচ উপনিবেশগুলোর দাসপ্রথা
থেকে বর্তমান মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ডলার লাভ করেছে। এর মধ্যে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির
শেয়ার থেকে আসা লভ্যাংশ রয়েছে। যা রাজপরিবারকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে।
গত এপ্রিলে গার্ডিয়ান প্রকাশিত নথিতে দেখা
যায়, ব্রিটিশ রাজপরিবারকেও অন্তত একবার একই ধরনের উপহার দেয়া হয়েছিল। ১৬৮৯ সালে রয়্যাল
আফ্রিকান কোম্পানির (আরএসি) কাছ থেকে শেয়ার বাবদ এক হাজার পাউন্ড পান তৃতীয় উইলিয়াম।
ওই সময় কোম্পানির ডেপুটি গভর্নর ছিলেন কুখ্যাত এডওয়ার্ড কলস্টন। রাজকীয় সাহায্য নিয়ে
ওই আরএসি হাজার হাজার আফ্রিকানকে বন্দি করে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রাজা
তৃতীয় চার্লস ও রাজপরিবারের সরাসরি পূর্বপুরুষরা ভার্জিনিয়ায় তামাক চাষের জন্য ক্রীতদাস
ক্রয় ও ব্যবহার করত।
ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় প্রথমবারের
মতো ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ও ট্রান্স-আটলান্টিক ক্রীতদাস বাণিজ্যের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণায়
সমর্থনের ইঙ্গিত দেন চার্লস।










