২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেনজুড়ে ১০০ বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। খারকিভ, খেরসন, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কসহ একাধিক অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। খবর সিএনএন।

গত শনিবার ইউক্রেনীয় জেনারেল স্টাফের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ‘‌শত্রুরা ইউক্রেনের সামরিক অবস্থান ও জনবহুল এলাকায় মোট ২৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৭টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এছাড়া একাধিক লঞ্চ রকেট সিস্টেম থেকে ৫৯ বার গুলি চালিয়েছে।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ক্রুজ মিসাইল আটকে দেয়ার একদিন পরই ঘটল এ হামলার ঘটনা। যদিও পশ্চিমা গোয়েন্দারা আগে সতর্ক করেছিল, শীতকালে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর বোমা হামলা বাড়াতে পারে রাশিয়া।

খারকিভের জরুরি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভে রাশিয়ান হামলায় অন্তত একজন আহত হয়েছে। খেরসন অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর প্রোকুদিনের মতে, রাশিয়ার সেনাবাহিনী খেরসন অঞ্চলে ৬২ বার গোলাবর্ষণ করেছে। এছাড়া মর্টার, আর্টিলারি, গ্র্যাড, ট্যাংক, ইউএভি এবং বিমান থেকে ৩০০টির বেশি শেল নিক্ষেপ করেছে।

অন্যদিকে শনিবার সকালে বেরিসলাভ শহরে রুশ বাহিনী ড্রোন থেকে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করলে একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় শহর আভদিভকা দখল করার জন্য কঠোর চাপ প্রয়োগ শুরু করেছে রাশিয়া।

এদিকে রাশিয়ার এমন আগ্রাসনের মধ্যে বিশ্ববাসীর কাছে আরো সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কা। বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‌আমাদের সত্যিই সাহায্য দরকার। সরলভাবে বলতে গেলে আমরা এ অবস্থায় ক্লান্ত হতে পারি না। কারণ আমরা যদি সেটা করি, তাহলে মারা যাব। আর বিশ্ব যদি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তাহলে তারা আমাদের মরতে দেবে।’

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসি সফরকালে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ক্যামেরন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইকে সমর্থন করে একটি সহায়তা প্যাকেজ পাস করে কিয়েভের মনোবল বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‌বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ বিষয়টি হবে পুতিনকে ইউক্রেন জিততে দেয়া।’