অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবির
থেকে বাহিনী প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েল। দুইদিনের অভিযানে ১২ ফিলিস্তিনি ও একজন
ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে কয়েকশ ফিলিস্তিনি। খবর বিবিসি।
সেনা প্রত্যাহারের খবর নিশ্চিতের পরও গতকাল
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জেনিন ক্যাম্প জুড়ে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা
যায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, গাজা উপত্যকা
থেকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর দক্ষিণ ইসরায়েলের দিকে ছোড়া পাঁচটি রকেট প্রতিহত
করেছে তারা।
তবে রকেট ছোড়ার দাবি করে তাৎক্ষণিকভাবে
কোনো গোষ্ঠী মন্তব্য করেনি।
জেনিন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার
শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর
হাতে এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল
সন্ধ্যায় শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে একজন নন-কমিশনড অফিসার নিহত হয়েছেন।
একই দিন সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস জানায়, জেনিনের
অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলে গাড়ি ও ছুরিকাঘাতে জবাব দিয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, তেল আবিব শহরের একটি ব্যস্ত শপিং রাস্তায় সাতজন আহত হয়েছে। হামলাকারী
পশ্চিম তীরের একজন ফিলিস্তিনি। পরে তাকে একজন বেসামরিক নাগরিক গুলিতে হত্যা করে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
বলেছেন, যদি কেউ মনে করে যে এই ধরনের হামলার কারণে আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই
থেকে বিরত থাকব, তারা ভুল করবেন।
সঙ্গে এও জানান, ইসরায়েলি বাহিনী জেনিনে
‘অভিযান সম্পূর্ণ
করেছে’। তবে প্রয়োজনে
আবারো হামলার সতর্কবার্তা দেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত ৩ জুলাই ভোরে
জেনিন শরণার্থী শিবিরে ড্রোন হামলার মাধ্যমে অভিযান শুরু করে। তাদের দাবি জেনিন ব্রিগেডের
একটি যৌথ কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করে এই হামলা। এরপর শত শত সৈন্য শিবিরে প্রবেশ করে
ও সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তীব্র বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ সময় আকাশ থেকে হামলা
অব্যাহত থাকে।
গতকাল জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের
মানবিক দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, জেনিনে যে পরিমাণ বিমান ও স্থল অভিযান চলছে এবং
পশ্চিম তীরে আজও চলছে, এবং বিশেষ করে বিমান হামলা, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। একটি ঘনবসতিপূর্ণ
শরণার্থী শিবিরে আঘাত করেছে তারা।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত
দিয়ে বলেন, নিহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। এখানে অবকাঠামোগত ক্ষতির অর্থ হলো বেশিরভাগ
শিবিরে এখন পানীয় জল নেই ও বিদ্যুৎ নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে ফিলিস্তিনি
অ্যাম্বুলেন্স ক্রুদের ক্যাম্পের কিছু অংশে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয়েছে। এতে তারা
গুরুতর আহত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪০
জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩০ জনের অবস্থা গুরুতর।










