ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করেছে। একদিকে যেমন দেশজুড়ে ৩ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে নতুন আটক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে মাত্র ৩০০ অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠাতে ব্যয় করা হচ্ছে অন্তত ৪ কোটি ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত পৃথক দুটি প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসনের এ ব্যয়বহুল ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে। খবর এপি ও রয়টার্স।

মার্কিন শুল্ক ও অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিভাগ চলতি বছরের শেষ নাগাদ আটক কেন্দ্রগুলোর জন্য ৩ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার খরচের পরিকল্পনা করছে। নিউ হ্যাম্পশায়ারের গভর্নর কেলি আইয়োটের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক নথিতে জানা গেছে, এ বিপুল অর্থ দিয়ে ১৬টি ভবন কিনে সেগুলোকে আঞ্চলিক প্রসেসিং সেন্টারে রূপান্তর করা হবে। এছাড়া আটটি বড় আকারের আটক কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রতিটিতে ১০ হাজার পর্যন্ত অভিবাসীকে রাখা সম্ভব হবে। মূলত ২০২৬ সালে আরো ১২ হাজার নতুন এজেন্ট নিয়োগের পর অভিবাসী গ্রেফতারের যে জোয়ার আসবে, তা সামাল দিতেই এ প্রস্তুতি। এ প্রকল্পের অর্থায়ন আসবে ২০২৫ সালে পাস হওয়া ১৭ হাজার কোটি ডলারের বিশাল ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ থেকে।

অন্যদিকে অভিবাসীদের নিজ দেশ ছাড়া তৃতীয় কোনো দেশে পাঠাতে ট্রাম্প প্রশাসনের খরচের হিসাব নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটি। ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তৈরি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে মাত্র ৩০০ অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠাতে অন্তত ৪ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি অভিবাসীকে সরানোর পেছনে গড় খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ডলার। সিনেটর জিন শাহীনের নেতৃত্বে তৈরি এ প্রতিবেদনে বিষয়টিকে ‘ব্যয়বহুল, অপচয় ও দুর্বল তদারকি’ হিসেবে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, রুয়ান্ডা, এল সালভাদর ও পালাউয়ের মতো দেশগুলোকে অভিবাসী গ্রহণের বিনিময়ে মোটা অংকের অর্থ প্রদান করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এল সালভাদর প্রায় ২৫০ জন ভেনিজুয়েলার নাগরিককে গ্রহণ করলেও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো হয়েছে মাত্র ২৯ জনকে। ডেমোক্র্যাটদের মতে, এ মানুষগুলোকে সরাসরি তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠালে করদাতাদের বড় অংকের অর্থ সাশ্রয় হতো। বর্তমানে প্রশাসন আরো ৪৭টি দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তির আলোচনা চালাচ্ছে। এর মধ্যে ১৫টি দেশের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আশ্রয় আবেদনের প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের অন্য দেশে রাখার জন্য ১৭টি দেশের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা চলছে।

তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এ উদ্যোগের পক্ষ নিয়ে বলেছে, এটি অবৈধ অভিবাসন বন্ধে ট্রাম্পের প্রচারণার একটি অংশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মূলত অপরাধী ও গ্যাং সদস্যদের শনাক্ত করে বের করে দেয়ার মাধ্যমেই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো অবশ্য এই ‘তৃতীয় দেশ’ নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, এটি অভিবাসীদের আইনি অধিকার লঙ্ঘন করছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে আইসিই হেফাজতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৪ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ৬৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে ৯২ হাজারে পৌঁছতে পারে।