নিউইয়র্ক থেকে শুরু করে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ধনকুবের ইলোন মাস্কের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছেন। ‘হ্যান্ডস অফ’ শিরোনামে এ বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচিকে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পবিরোধী সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির ৫০টি রাজ্য ও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে এ বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা এটিকে ‘বিলিয়নেয়ারদের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১৪শটিরও বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের ভাষায়, ‘যেখানেই পারি আওয়াজ তুলব—জনগণের কণ্ঠ যেন তারা শুনতে পায়।’ বিক্ষোভে দেড় শতাধিক গোষ্ঠী অংশ নিয়েছে। সেগুলোর একটি ‘ইনডিভিজিবল’। গোষ্ঠীটির সহপ্রতিষ্ঠাতা এজরা লেভিন বলেন, ‘বিশাল এ বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে তারা ট্রাম্প, ইলোন মাস্ক, রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ও তাদের মিত্রদের পরিষ্কার বার্তা পাঠাতে চান যে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না।’
ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে মেরিল্যান্ডের কংগ্রেসম্যান জেমি রাসকিন বলেন, ‘আমাদের সংবিধান শুরু হয়েছে “উই দ্য পিপল’’ দিয়ে, “উই দ্য ডিক্টেটরস’’ দিয়ে নয়। কোনো নৈতিক মানুষ এমন একজন প্রেসিডেন্ট চান না, যিনি অর্থনীতিকে ধ্বংস করেন।’ মিনেসোটার প্রতিনিধি ইলহান ওমার বলেন, ‘আমরা যদি এমন একটি দেশ চাই, যেখানে প্রতিবেশীর যত্ন নেয়া হয়, গরিবদের সাহায্য করা হয়, তাহলে আমাদের এজন্য লড়াই করতে হবে।’
গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর নতুন গঠন করা সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) দায়িত্ব দেন ইলোন মাস্ককে। এরপর থেকে তার দল কেন্দ্রীয় সরকারের ২৩ লাখ কর্মচারীর মধ্যে দুই লাখের বেশি পদ শূন্য করেছে। বিক্ষোভ চলাকালে মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরের কাছে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেয় শত শত মানুষ। সংস্থাটি ডিওজিইর বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটির সাত হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার ঘোষণা দেয়া হয়। কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেয়া ব্যক্তিদের হাতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। তাতে লেখা ছিল, ‘আমাদের দেশ কোন দিকে যাচ্ছে’, ‘ডিওজিইকে চাকরিচ্যুত করুন’, ‘মাস্ককে মঙ্গল গ্রহে পাঠিয়ে দিন’।
বোস্টনে বিক্ষোভকারীরা ‘হ্যান্ডস অফ আওয়ার ডেমোক্রেসি’ এবং ‘হ্যান্ডস অফ আওয়ার সোশ্যাল সিকিউরিটি’ লেখা ব্যানার বহন করেন। বোস্টনের মেয়র মিশেল উ বলেন, ‘আমি মেনে নিতে পারি না যে আমার সন্তানেরা এমন একটি দেশে বড় হবে, যেখানে তাদের দাদু-দাদিকে কেবল অভিবাসী হওয়ার কারণে অপরাধী হিসেবে দেখা হবে।’
ওহাইওর ডেলাওয়্যার কাউন্টির ৬৬ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত রজার ব্রুম বলেন, ‘আমি একসময় রিগ্যানপন্থী রিপাবলিকান ছিলাম। কিন্তু ট্রাম্প আমাকে রাজনীতি থেকে বিমুখ করে দিয়েছে। প্রশাসনটা কেবল অভিযোগ আর প্রতিহিংসার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ওরা দেশটা ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।’
ফ্লোরিডার পাম বিচ গার্ডেনসে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। ট্রাম্প যখন কাছাকাছি একটি গলফ ক্লাবে দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন মানুষ তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে সড়কে জড়ো হয়। পোর্ট সেন্ট লুসির বাসিন্দা আর্চার মোরান বলেন, ‘ওদের বলো—আমাদের সোশ্যাল সিকিউরিটির ওপর হাত দিও না। এটা আমাদের অধিকার, ওদের খেলনা নয়।’
এদিকে হোয়াইট হাউজ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার—তিনি সবসময় উপযুক্ত নাগরিকদের জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড রক্ষা করবেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের নীতি হচ্ছে অবৈধ অভিবাসীদের সুবিধা দিয়ে এসব প্রোগ্রাম ধ্বংস করা।
বিক্ষোভকারীরা অবশ্য এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, সরকারের এ সংকোচনমূলক নীতি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনধারায় আঘাত হানছে। এ বিক্ষোভ স্পষ্ট করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এ আন্দোলন রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে কতটা এগোবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।










