সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর আবার গাজায় হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। সর্বশেষ শুক্রবার অন্তত ৪৫০ স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৩৫০ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি হয়। আহত হয় কয়েকশ। গতকালও হামলা অব্যাহত ছিল। খবর রয়টার্স, আল জাজিরা ও টাইমস অব ইসরায়েল।

গতকাল ভোরে গাজা উপত্যকার দক্ষিণের শহর রাফাহ ও উত্তরের গাজা নগরীতে বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। রাফাহ শহরের এক আবাসিক ভবনে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ওয়াফা। এছাড়া গাজার আসাহাবা মেডিকেল কমপ্লেক্সের কাছেও কয়েকজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয় খান ইউনিসে। বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয় বিমান হামলা। এ সময় একই পরিবারের ১০ সদস্য নিহত হন। এদিকে মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ধ্বংস হয়। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস, জউরাত আল আকাদ ও আল–মাহাত্তা এলাকায়ও ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো।

গত ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেছে ১৭ হাজার ৪৮৭ ফিলিস্তিনির। আহত অন্তত ৬০ হাজার। হতাহতদের ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য গত শুক্রবার জাতিসংঘে তোলা প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আটকে যায় যুদ্ধবিরতির পথ। এজন্য বাইডেন প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নেতানিয়াহু প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন ‘‌অন্যায়’ অবস্থানের পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

ইস্তানবুলে মানবাধিকার বিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‌অন্যান্য দেশের বিপুল সমর্থন সত্ত্বেও গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু মার্কিন ভেটোর কারণে নিরাপত্তা পরিষদের দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এটাই কি ন্যায়বিচার? জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার করতে হবে।’

সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর ১ ডিসেম্বর থেকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। প্রতিদিন হতাহত হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। শুক্রবার জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘‌গাজার মানবিক পরিস্থিতি দুঃস্বপ্নের মতো। সেখানকার বাসিন্দারা কোথাও নিরাপদ নয়।’

এদিকে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে ‘অনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের’ হুমকির ব্যাপারে সতর্ক করেছে ইরান। গতকাল দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ কূটনীতিক হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান এ সতর্কতার কথা জানান। একই সঙ্গে, গাজা উপত্যকায় মানবিক সাহায্য পাঠানোর জন্য মিসরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং অবিলম্বে খুলে দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।