ইসরায়েল-হামাস সংঘাত নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা পরস্পরের প্রস্তাবে (রেজল্যুশন) ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। গতকাল বুধবার (২৫ অক্টোবর) ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব না আনায় সমালোচনার করে বিরোধীরা। অন্যদিকে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে সরব যুক্তরাষ্ট্র।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক খসড়ায় বলা হয়েছিল- ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য ইরানের অস্ত্র রফতানি বন্ধ করতে হবে। শুরুতে ‘মানবিক বিরতি’ না থাকলেও চূড়ান্ত খসড়ায় খানিকটা সুর পাল্টায় যুক্তরাষ্ট্র। এমন প্রস্তাবে ভেটো দেয় রাশিয়া ও চীন।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ডের তোলা প্রস্তাবে না ভোট দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত না এবং বিরত ছিল ব্রাজিল ও মোজাম্বিক। পক্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, আলবেনিয়া, একুয়েডর, গ্যাবন, ঘানা, জাপান, মাল্টা ও সুইজারল্যান্ড।

ভোটের পর জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন বলেন, খসড়াটি যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বানকে প্রতিফলিত করে না। সমস্যা সমাধানে কোনো সহায়তা করে না। এই মুহূর্তে ‘যুদ্ধবিরতি’ শুধু একটি কূটনৈতিক শব্দ নয়। এর অর্থ অনেক বেসামরিক নাগরিকের জীবন ও মৃত্যু।

এরপর জাতিসংঘের রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেখানে একটি মানবিক যুদ্ধবিরতি ও স্থল হামলার আগে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের দক্ষিণে সরে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলের আদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

এখানে রাশিয়া ন্যূনতম পরিমাণ সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়। মাত্র চারটি ভোট রয়েছে। একটি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য কমপক্ষে নয়টি ভোটের প্রয়োজন।

রুশ প্রস্তাবে ভেটো দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। পক্ষে ভোট দেয় রাশিয়া, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও গ্যাবন। আর ভোটদানে বিরত ছিল ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ঘানা, জাপান, মাল্টা, সুইজারল্যান্ড ও মোজাম্বিক।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ। সঙ্গে রয়েছে অস্থায়ী ১০ সদস্য। সবার ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে যেকোনো প্রস্তাব পাসে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের সবার সম্মতির দরকার হয়। কোনো একটি স্থায়ী সদস্য দেশ ভেটো দিলে প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।