যুদ্ধবিরতি শেষ হতে না হতেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের হামলা করেছে ইসরায়েল। এক সপ্তাহের মানবিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয় স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায়। এর পরপরই গাজাজুড়ে একের পর এক বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৫৪ জন নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে। খবর আলজাজিরা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমান হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৫৪ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আহত হয়েছে আরো কয়েক ডজন মানুষ। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো বাড়াতে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর তৎপরতার মধ্যেই আজ নতুন করে গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা করছে আইডিএফ।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর জানিয়েছে, ইসরায়েল তার লক্ষ্য অর্জনে ফের লড়াই শুরু করেছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে— জিম্মিদের মুক্ত করা, হামাসকে নির্মূল করা এবং গাজা উপত্যকা যেন ইসরায়েলের জন্য আর হুমকি হয়ে দাঁড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

গাজা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর থেকে অঞ্চলটিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। একই সময়ে অঞ্চলটির প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার।

বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার জবাবে ইসরায়েলে সিরিজ রকেট হামলার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। দলটির সামরিক শাখা আল কাসসাম ব্রিগেড জানিয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের অ্যাশকেলন, সেডেরট ও বিয়ারশেবা শহরে রকেট হামলা চালিয়েছে তারা। হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজ্জাত আল রিশেক বলেছেন, যুদ্ধের প্রথম ৫০ দিনে যা অর্জন করতে পারেনি, যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে আগ্রাসন চালিয়ে তা অর্জন করতে পারবে না দখলদার বাহিনী।

গত ৭ অক্টোবর অতর্কিত ইসরায়েলের সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা করে হামাস। ওই সময় এক হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হন। এছাড়া জিম্মি করে আনা হয় ২৪০ জনকে।

গত ২৪ নভেম্বর শুরু হয়েছিল চারদিনের যুদ্ধবিরতি। এর পর দুই দফা বাড়িয়ে মোট এক সপ্তাহ স্থগিত থাকে হামলা। এ সময় হামাস ১১০ ও ইসরায়েল ২৪০ জন বন্দিকে মুক্তি দেয়। একই সময়ে পশ্চিম তীরে হামলা, গ্রেফতার ও হতাহত অব্যাহত থাকলেও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুবিধা দিয়েছে ইসরায়েল।