ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের
রাজ্যসভা সদস্য ধীরাজ সাহুর বাড়ি ও তার প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ
অর্থ উদ্ধার করেছে আয়কর দফতর। বাজেয়াপ্ত অর্থ গুনতে দুইদিনেরও বেশি লাগছে কর্মকর্তাদের।
যার পরিমাণ ৩০০ কোটি রুপিরও বেশি।
হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়,
গতকাল শনিবার (৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ৩৬টি মেশিনে গোনা হচ্ছিল জব্দ করা অর্থ। রাতে আরো
মেশিন আনানো হয়।
একইসঙ্গে ধীরাজের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত
এক মদের ব্যবসায়ীর বাড়িতেও হানা দেয় আয়কর দফতর। বান্টি সাহু নামের ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি
থেকে ২০টি ব্যাগে করে নগদ অর্থ বের করে আনে আয়কর দফতর।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধীরাজের বাড়িতে
আপাতত ৪০টি বড় ও ছোট মেশিনে টাকা গোনার কাজ চলছে। এ কাজে সহযোগিতা করতে স্থানীয় একটি
ব্যাংকের শাখায় কর্মীকে চাওয়া হয়েছে। আয়কর কর্মকর্তাদের কথায়, ‘এত নগদ টাকা দেখে মনে
হচ্ছে আমরা কোনো ব্যাংকের স্ট্রং রুমে আছি।’
শুধু নগদ অর্থ নয়, এরই সঙ্গে একাধিক
নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই নথি খতিয়ে দেখতে হায়দরাবাদ থেকে ২০ জনের বিশেষজ্ঞ দলকে
ডেকে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা না হলেও ধীরাজের সংস্থার কর্মীদের জেরা
করা হচ্ছে।
ধীরাজের সংস্থার নাম বৌধ ডিস্টিলারিজ
প্রাইভেট লিমিটেড। এছাড়া এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলদেব সাহু উনফ্রা প্রাইভেট লিমিটেডসহ
আরো কিছু জায়গায় চলছে তল্লাশি।
এই আবহে সাংসদের দায় নিজেদের কাঁধ থেকে
ঝেড়ে ফেলেছে কংগ্রেস। দলটির সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেছেন, ধীরাজ সাহুর ব্যবসার
সঙ্গে কংগ্রেস কোনোভাবে জড়িত নয়। এই বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত অর্থ নিয়ে একমাত্র তিনিই
বলতে পারবেন।
প্রতিবেদন বলা হয়, বৌধ ডিস্টিলারিজ
প্রাইভেট লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে আয়কর ফাঁকি দিয়ে আসছিল। এ কারণে বারবার নোটিস পাঠানো
হলেও অগ্রাহ্য করেছিল সংস্থাটি।
২০১০ সাল থেকেই ঝাড়খণ্ড থেকে নির্বাচিত
রাজ্যসভা সদস্য ধীরাজ। কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তার পরিবারের। ধীরাজের ভাইও
ছিলেন দুইবারের নির্বাচিত সাংসদ।









