যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেডলাইন শেয়ারবাজারে যাত্রা করেছে। গত বুধবার নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি। প্রথম দিনই মেডলাইনের শেয়ারদর ৪১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এটি শুধু চলতি বছরই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালের বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও)। খবর সিএনবিসি।
প্রাথমিকভাবে মেডলাইনের প্রতিটি শেয়ারের দাম ২৯ ডলার নির্ধারণ হয়েছিল। তবে গত বুধবার লেনদেন শুরু হতেই তা ৩৫ ডলারে উঠে যায় এবং দিন শেষে ৪১ ডলারে স্থির হয়। এ অভাবনীয় উল্লম্ফনের ফলে কোম্পানিটির বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে।
২১ কোটি ৬০ লাখের বেশি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মঙ্গলবার মেডলাইন বাজার থেকে ৬২৬ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে, যা ২০২১ সালে অটোমেকার রিভিয়ানের অভিষেকের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বৃহত্তম তালিকাভুক্তি। নাসডাকে মেডলাইনের শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ‘এমডিএলএন’ সিম্বল বা প্রতীকে। নিয়ন্ত্রক নথি অনুসারে, আইপিও মূল্যের ভিত্তিতে মেডলাইনের বাজারমূল্য কমপক্ষে ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
মেডলাইনের সিইও জিম বয়েল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা সম্ভবত বিশ্বের এমন একটি বৃহৎ কোম্পানি যার নাম সাধারণ মানুষ খুব একটা শোনেনি, কিন্তু আমাদের পণ্য সব জায়গায় রয়েছে। আমরা খুব একটা বিজ্ঞাপন বা বিপণন করি না। শেয়ারবাজারে আসায় আমাদের পরিচিতি আরো বাড়বে এবং আমরা আরো বড় পরিসরে কাজ করতে পারব।‘
সার্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের আইপিও বাজার ২০২৫ সালে স্থিতিশীল রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত উচ্চ শুল্কনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দীর্ঘতম সরকারি শাটডাউন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ালেও এ বছর দেশটির পুঁজিবাজারে দুই শতাধিক আইপিও সম্পন্ন হয়েছে। মেডলাইনের এ তালিকাভুক্তি ২০২১ সালের নভেম্বরে রিভিয়ানের ১ হাজার ৩৭০ কোটি ডলারের আইপিওর পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আইপিও।
আইপিওটি বেসরকারি ইকুইটি-সমর্থিত তালিকাভুক্তির মধ্যেও অন্যতম বৃহৎ। ব্ল্যাকস্টোন, কার্লাইল ও হেলম্যান অ্যান্ড ফ্রিডম্যান এ তিন প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালে ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে মেডলাইনের নিয়ন্ত্রণমূলক অংশীদারত্ব কিনে নেয়। আর্থিক সংকটের পর সে সময় এটি ছিল সবচেয়ে বড় লিভারেজড বাইআউট।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মেডলাইনের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের নর্থফিল্ডে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও সরবরাহ লাইনে রয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল পণ্য, যা গ্লাভস, মাস্ক, স্ক্যালপেল থেকে শুরু করে হুইলচেয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত। মেডলাইনের গ্রাহক রয়েছে শতাধিক দেশে। ২০২৪ সালের শেষে বিশ্বজুড়ে কোম্পানিটির কর্মীর সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজারের বেশি।
আরো আগে মেডলাইনের আইপিও ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু এশিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্কারোপ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় সে পরিকল্পনা পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। মেডলাইনের বেশির ভাগ পণ্য এশিয়া, বিশেষ করে চীন থেকে আমদানি বা সেখানে তৈরি করা হয়।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, শুল্কের কারণে ২০২৬ অর্থবছরে কর-পূর্ব আয়ে ১৫-২০ কোটি ডলার পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ২০২৪ সালে মেডলাইনের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারে। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ কোম্পানিটির মোট ঋণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার।










