বিশ্ববিখ্যাত আধ্যাত্মিক নেতা, দানশীল ব্যক্তি ও বিলিয়নেয়ার উদ্যোক্তা প্রিন্স করিম আগা খান (৮৮) মারা গেছেন। গতকাল পর্তুগালের লিসবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার দাতব্য সংস্থা আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক শোকবার্তায় জানিয়েছে, আমরা তার পরিবার এবং বিশ্বব্যাপী ইসমাইলি সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব, যাতে বিশ্বের প্রতিটি কোণে মানুষের জীবন আরো ভালো হয়।

আগা খান ছিলেন একজন বিশিষ্ট দানশীল ব্যক্তি, যার সংস্থা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া তিনি ছিলেন শিয়া ইসলামের ইসমাইলি সম্প্রদায়ের ৪৯তম বংশগত ইমাম।

আগা খান সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করেন। যদিও বসবাস করতেন ফ্রান্সের এক প্রাসাদে। ১৯৫৭ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে দাদার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শুধু ইসমাইলি সম্প্রদায়ের নয়, বরং সারা বিশ্বের বহু মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। ২০০৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করেছিল, যার মধ্যে ঘোড়া পালন ও অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে তিনি ইউরোপের অন্যতম সফল ঘোড়া প্রজননকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

আগা খানের দাতব্য সংস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় শতাধিক হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক প্রকল্প পরিচালনা করেছে। তার এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের জীবনমানের উন্নতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও তার প্রয়াত মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আগা খান। রাজা তৃতীয় চার্লসকে এ সমাজসেবীর মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বন্ধুর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত রাজা চার্লস। তিনি আগা খানের পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ রাখছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আগা খানকে দূরদর্শী, বিশ্বাসী, উদার মানুষ এবং অসাধারণ একজন নেতা হিসেবে বর্ণনা করে শ্রদ্ধা জানান।

আগা খান পাকিস্তানের করাচিতে আগা খান ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এছাড়া হার্ভার্ড ও এমআইটির যৌথ উদ্যোগে আগা খান প্রোগ্রাম ফর ইসলামিক আর্কিটেকচার চালু করেন। ভারতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, বিশেষ করে দিল্লির ঐতিহাসিক হুমায়ুনের সমাধি সংস্কারে।