হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ কারণে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার খরচ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এ মিত্রকে। এ বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল জাজিরা। যেখানে সম্ভাব্য খরচের নমুনা দেয়া হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের অতর্কিত হামলার সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। প্রথমে বিমান হামলা করলেও সপ্তাহখানেক আগে এটি স্থল হামলায় গড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, বিমানবাহিনীকে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি দীর্ঘ তালিকা দেয়া হয় যেখানে যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট না এমন অনেক স্থানকেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। শক্তি প্রদর্শনের জন্যই বিস্তৃত পরিসরে ব্যয়বহুল এ হামলায় প্রতিদিনই শতশত ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছেন।

তেল আবিব প্রাথমিকভাবে বিমান হামলার সংখ্যা উল্লেখ করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। তবে এই তথ্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলার আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করে লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যা প্রকাশ করে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত ইসরায়েলি আক্রমণের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গাজার প্রায় ১২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে ওই পরিসংখ্যানে রণকৌশল উল্লেখ করা হয়নি।

গাজায় ব্যবহৃত বোমার সংখ্যা থেকে অনুমান করা যায় তেল আবিবের এবারের হামলা কতটা ব্যয়বহুল। গত কয়েক দিনে গাজা ভূখণ্ডে অন্তত ১৮ হাজার টন বোমা নিক্ষেপ করেছে তেল আবিব। যার বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এমকে-৮০ বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। এসব বোমা ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকেই ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। যার ওজন ১২০ কেজি থেকে এক হাজার কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া হামলায় ব্যবহৃত বেশির ভাগ ফাইটার জেটও একই দেশের দেয়া। ইসরায়েল এরই মধ্যে মিত্র দেশটির কাছ থেকে প্রতিশ্রুত ৭৫টি ফাইটারের মধ্যে ৪০টি এফ-৩৫ হাতে পেয়েছে।  

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় প্রতিদিন ৬০০ টন বোমা ফেলছে ইসরায়েল। এসব বোমা পরিবহনের জন্য বিশালকৃতির অন্তত ৩০টি লরির প্রয়োজন। প্রতি এক হাজার কেজি ওজনের বোমার জন্য মার্কিন বিমানবাহিনীর খরচ হয় ১৬ হাজার ডলার। অন্যদিকে ইসরায়েলকে অন্যান্য প্রযুক্তিগত খরচ বাদ দিয়ে প্রতি হাজার কেজি বোমার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে ২৫ হাজার ডলার।

শুধু প্রারম্ভিক ধাঁচের বোমা হামলার জন্য তেল আবিবকে প্রতিদিন গড়ে দেড় কোটি ডলার খরচ করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে পরিমাণ যদি বাড়ানো হয় তাহলে প্রতিদিন এই খরচ দাঁড়াবে আড়াই কোটি ডলারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাতের শুরু থেকে এ বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার।

এছাড়া এফ-১৬ বিমান উড়াতে প্রতি ফ্লাইটে এক ঘণ্টায় খরচ হচ্ছে আট হাজার ডলার। প্রতিদিন গড়ে যুদ্ধযানটি ৩০০টি ফ্লাইট দিলে ঘণ্টার হিসেবে এর খরচ দাঁড়ায় ২৫ লাখ ডলার। এ হিসাব মতে ইসরায়েলকে এখন পর্যন্ত এফ-১৬ বিমান উড়াতে খরচ করতে হয়েছে প্রায় সাত কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বোমা হামলাকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি, পুনরুদ্ধার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, আকাশে প্রাথমিক সতর্কীকরণ যানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আকাশচুম্বী খরচ।

ইসরায়েল সম্ভবত গাজায় বোমা চালানোর জন্য এ পর্যন্ত অন্তত ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে এবং সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনার খরচ। যার বাইরে রয়েছে সপ্তাহ খানেক আগে শুরু হওয়া স্থল হামলার ব্যয়।