মঙ্গলবার (৩ জুন) দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত চিত্র—প্রধান বিরোধী প্রার্থী লি জে-মিওং বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।
একটি জনসভায় তিনি যখন মঞ্চে উঠেন, তখন তাকে ঘিরে ছিল সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মীরা। তাদের হাতে বলিস্টিক ব্রিফকেস, যেগুলো দিয়ে যেকোনো মুহূর্তে তাকে ঢেকে ফেলা যাবে। তিনি আশপাশের ছাদে অবস্থান নেয়া স্নাইপারদের নজরদারির মাঝে বুলেটপ্রুফ কাচের পেছন থেকে বক্তৃতা দেন।
এটি দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাভাবিক রাজনীতির চিত্র নয়। তবে বাস্তবতা হল, দেশটিও এখন আর স্বাভাবিক নেই। গত ডিসেম্বর, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়ুল সামরিক শাসন জারি করতে চেয়ে জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হন। পরে তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে সরিয়ে দেয়া হয়। সেই শূন্যস্থান পূরণে এই নির্বাচন।
কিন্তু ওই রাতের বিশৃঙ্খলা এখনো কাটেনি। প্রেসিডেন্টবিহীন রাষ্ট্রটি রাজনৈতিকভাবে আরো মেরুকৃত হয়েছে। রাজনীতিতে এসেছে সহিংসতা। এই পরিস্থিতিতে এ নির্বাচন এখন কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয় নয়; এটি দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্র পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। কিন্তু ক্ষমতাসীন ‘পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি)’ এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তারা এমন একজন প্রার্থীকে মনোনীত করেছে যিনি ইউনের সামরিক শাসনচেষ্টা প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন। পিপিপি মনোনীত প্রার্থী হলেন, ইউনের সাবেক শ্রমমন্ত্রী কিম মুন-সু।
এর ফলে নির্বাচনটি মূলত ইউনের ব্যর্থ সামরিক শাসনের ওপর গণভোটে পরিণত হয়েছে, যা বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী লি'কে এগিয়ে দিয়েছে। সংবিধান সংস্কার করে ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টদের পক্ষে সামরিক শাসন জারি করা কঠিন করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, লি প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। তবে লি'ও বিতর্কিত চরিত্র। তার বিরুদ্ধে মামলা, দুর্নীতির অভিযোগ, নানা কেলেঙ্কারি আছে।
এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাচ্ছেন কিম। তিনি নিজেকে তুলে ধরছেন ‘ন্যায়বিচার ও সততার প্রতীক’ হিসেবে। কিমের রাজনৈতিক যাত্রাপথ ব্যতিক্রমী। একসময় শ্রমিক অধিকার নিয়ে আন্দোলন করায় স্বৈরশাসনের আমলে তাকে নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি ডানপন্থায় ঝুঁকে পড়েন। তবে তাকে মনোনয়ন দেয়া নিয়ে দলের ভেতর দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে। এখন পিপিপি বিভক্ত, দুর্বল। দলের একজন অভ্যন্তরীণ সূত্র বলেছেন, ‘আমরা তো আগেই ভেঙে পড়েছি। এটা একেবারে দুঃখজনক এক প্রচারণা।’
এই সুযোগ লি কাজে লাগিয়েছেন মধ্যপন্থীদের আকৃষ্ট করতে। নীতিগত অবস্থান ডানমুখী করে তিনি এখন দক্ষিণ কোরিয়ার করপোরেট গোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা জোটের পক্ষে কথা বলছেন। যা তার অতীত অবস্থানের সঙ্গে বিপরীত।
এ অবস্থায় ভোটারদের একাংশ বিভ্রান্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি লি জয় পান তাহলে তার হাতে থাকবে শক্তিশালী ম্যান্ডেট ও সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ—যা দিয়ে তিনি রাজনৈতিক সংস্কার চালাতে পারবেন।
বিবিসি অবলম্বনে










