চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আঞ্চলিক নৌপথের বিঘ্ন সামাল দিতে জার্মানিভিত্তিক কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি ডলার। জ্বালানি, বীমা, পণ্য সংরক্ষণ, স্থলপথে পরিবহন ও বিকল্প রুট ব্যবহারে এ বাড়তি খরচ হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
বাড়তি ব্যয়ের মধ্যেও জুন প্রান্তিকে মুনাফায় ফিরেছে হ্যাপাগ-লয়েড। এ সময় কোম্পানিটির ত্রৈমাসিক নিট মুনাফা ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছে। এর আগের প্রান্তিকে ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার লোকসান গুনে কোম্পানিটি। পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ও স্পট ফ্রেইট রেট বাড়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়ায় হ্যাপাগ-লয়েডের ব্যবসা।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে হ্যাপাগ-লয়েডের ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার লোকসান হয়। ওই সময় প্রতিকূল আবহাওয়া ও আঞ্চলিক নৌপথে নানা সীমাবদ্ধতা ব্যবসায় প্রভাব ফেলে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়। এশিয়া থেকে পণ্য রফতানি ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাহিদা বাড়ায় কনটেইনার পরিবহনের পরিমাণও বাড়ে।
কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে হ্যাপাগ-লয়েড ৩৫ লাখ টিইইউ কনটেইনার পরিবহন করেছে। আগের বছরের একই সময় এ পরিমাণ ছিল ৩৪ লাখ টিইইউ। একই সময় গড় ফ্রেইট রেট ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি টিইইউ ১ হাজার ৪৭৫ ডলারে ওঠে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ হার ছিল ১ হাজার ৩৫৪ ডলার।
আঞ্চলিক সংঘাত ও নৌপথের বিঘ্নের কারণে পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিক রুট ব্যবহার করতে পারেনি কোম্পানিটি। ফলে জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
হ্যাপাগ-লয়েড জানায়, অতিরিক্ত ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে জাহাজের জ্বালানি বা বাঙ্কার খরচ থেকে। এর সঙ্গে বেড়েছে বীমা, পণ্য সংরক্ষণ, স্থলপথে পরিবহন ও বিকল্প রুট ব্যবহারের ব্যয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কোম্পানিটি উপসাগরীয় অঞ্চলে বিকল্প পরিবহনপথ ব্যবহার করছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আপার গালফ বা উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তরের দেশগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে স্থলপথের সংযোগ ব্যবহার করছে হ্যাপাগ-লয়েড। একই সঙ্গে বিভিন্ন ফিডার সার্ভিস ও অভ্যন্তরীণ পরিবহনপথের মাধ্যমে গ্রাহকদের পণ্য পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
আগস্টের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, হ্যাপাগ-লয়েডের বহরে ৩০০টি কনটেইনার জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজের মোট পরিবহন সক্ষমতা ২৫ লাখ টিইইউ। বিশ্বজুড়ে ৬০০টি বন্দরের সঙ্গে ১২৯টি নিয়মিত নৌপথে সেবা দিচ্ছে কোম্পানিটি।










