কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয়রা ভণ্ডামি করছে। তারা নিজেদের সৎ পক্ষ হিসেবে দেখালেও বাস্তবে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে ছোট করে দেখিয়েছে। তারা আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় কাজ করছে। খবর আল জাজিরা।
জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউরোপীয়রা আইনি বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে গেছে এবং ইরানের আইনসঙ্গত পদক্ষেপগুলোকে ভ্রান্তভাবে ‘চুক্তি ভঙ্গ’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার নিন্দা করেন, যা ১২ দিনের যুদ্ধের সূচনা করেছিল। এতে ইরানের বহু জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং দেশটির প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, ইসরায়েলের বিমান হামলায় এক হাজারের বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পারমানবিক ইস্যু নিয়ে তেহরানের এ ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির (ই-থ্রি) উদ্যোগে শুরু হওয়া ৩০ দিনের প্রক্রিয়া ২৭ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। এ তিন দেশ অভিযোগ করেছে, তেহরান ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
ই-থ্রি জানিয়েছে, ইরান যদি জাতিসংঘ পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার পুনঃস্থাপন করে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে উদ্বেগ দূর করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়, তবে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লিখেছেন, ‘চুক্তি এখনও সম্ভব। মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। ইরানের এখন আমাদের উত্থাপিত যৌক্তিক উদ্বেগগুলোর জবাব দেয়া দরকার।’
জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান আরো বলেন, ইসরায়েল প্রকাশ্যে “গ্রেটার ইসরায়েল” পরিকল্পনার কথা বলছে, যা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘বাফার জোন’ তৈরির কৌশল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রায় দুই বছরের গণহত্যা, গণ-অনাহার, দখলকৃত ভূখণ্ডে বর্ণবৈষম্য এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসনের পরও ইসরায়েল এখনো এই অবাস্তব ও দুঃসাহসী পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে।’ ভাষণ শেষে তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইরান শান্তির সন্ধ্যানে থাকা সব দেশের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী ও বন্ধু। আসুন, আমরা একসঙ্গে সংকটকে সুযোগে রূপান্তর করি।’










