বেলারুশে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের একটি চালান পৌঁছে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সঙ্গে জোর দিয়ে
বলেন, আপাতত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নেই। খবর রয়টার্স।
গতকাল শুক্রবার (১৬ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গে
ফ্ল্যাগশিপ ইকোনমিক ফোরামে বক্তৃতায় পুতিন এসব তথ্য দেন।
তিনি বলেন, আমাদের মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট
আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে আলোচনা করছিলাম যে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের একটি অংশ
বেলারুশে নিয়ে যাব। এটিই ঘটেছে।
আরো জানান, মোট অস্ত্রের চালানের একটি
অংশ পৌঁছেছে। গ্রীষ্মের শেষের দিকে বা বছরের শেষ নাগাদ কাজটি সম্পূর্ণ হবে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে নিজ
ভূখণ্ডের বাইরে এই ধরনের ওয়ারহেড প্রথমবার মোতায়েন করল মস্কো। স্বল্প-পাল্লার পারমাণবিক
অস্ত্রগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
কয়েক মাস আগেই ক্রেমলিন থেকে বেলারুশে
অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা আসে। তখন থেকে ধরে নেয়া হচ্ছে, এ পদক্ষেপ ইউক্রেনকে সশস্ত্র
ও সমর্থনের বিষয়ে পশ্চিমাদের জন্য সতর্ক সংকেত।
এর আগে পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র লুকাশেঙ্কো
বলেছিলেন, তার দেশে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ শুরু হয়েছে। যার মধ্যে কোনো কোনোটি
১৯৪৫ সালে জাপানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা পারমাণবিক বোমার চেয়ে তিনগুণ বেশি শক্তিশালী।
মার্চে পুতিন ঘোষণা করেছিলেন, বেলারুশে
কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপনে সম্মত হয়েছেন তিনি। বহু দশক ধরে ইউরোপীয় দেশে যুক্তরাষ্ট্রের
এই ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের দিকেও ইঙ্গিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র পুতিনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা
করেছিল ওই সময়। সঙ্গে এও বলে, রাশিয়া এই অস্ত্র ব্যবহার করবে এমন কোনো লক্ষণ দেখছে
না তারা। যুক্তরাষ্ট্রেরও কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে নিজস্ব অবস্থান পরিবর্তনের
কোনো ইচ্ছা নেই।
ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের পাশাপাশি চীনও
এই পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইউক্রেনের যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের
বিরুদ্ধে বারবার সতর্ক করেছে বেইজিং।
এদিকে গতকাল ইউক্রেন দাবি করেছে, বাখমুত
শহরের চারপাশে রুশ বাহিনী ‘মরিয়া প্রতিরোধের’ সম্মুখীন হচ্ছে।
দীর্ঘ যুদ্ধের পর রাশিয়া গত মাসে অঞ্চলটি দখল করে নেয়। ইউক্রেন বলছে, পাল্টা আক্রমণের
প্রাথমিক পর্যায়ে সাতটি গ্রাম ও ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে তারা।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে,
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন ফ্রন্টলাইন অবস্থানে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর অনেকগুলো পাল্টা আক্রমণ
প্রতিহত করেছে তারা। কিয়েভের বাহিনীর মারাত্মক ক্ষতিও করেছে।










