প্রথমবারের মত সফলভাবে মানবদেহে মূত্রথলি বা ব্লাডার প্রতিস্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা। গত ৪ মে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের রোনাল্ড রেগান ইউসিএলএ মেডিকেল সেন্টারে এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। মঙ্গলবার (২০ মে) ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, এটি গুরুতর মূত্রথলি সমস্যায় আক্রান্ত অনেক রোগীর জন্য আশার দুয়ার খুলে দেবে।

রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চার সন্তানের জনক ৪১ বছর বয়সী অস্কার লারেইনসারের শরীরে এ অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। ক্যান্সারের কারণে তার মূত্রথলির একটি বড় অংশ আগেই অপসারণ করতে হয়েছিল। পরে তার দুটি কিডনিও অপসারণ করতে হয়। সাত বছর ধরে টানা ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন তিনি।

অস্ত্রোপচারে তিনি এক দাতার কাছ থেকে একটি কিডনি ও একটি মূত্রথলি পেয়েছেন। আট ঘণ্টার দীর্ঘ অপারেশনে সেগুলো লারেইনসারের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসকরা।

ইউসিএলএ কর্তৃপক্ষ বিবৃতিতে আরো জানায়, প্রথমে রোগীর শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়, তারপর মূত্রথলি। এরপর কিডনিটিকে নতুন মূত্রথলির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া সার্জন ড. নিমা নাসিরি জানান, অপারেশনের পরপরই কিডনি প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তাই রোগীর কোনো ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়নি। তিনি আরো জানান, মূত্রথলি প্রতিস্থাপন সফল করতে আমাদের দীর্ঘ চার বছরের প্রস্তুতি লেগেছে।

ড. নাসিরি ও সহকারী সার্জন ড. ইন্দরবীর গিল বলেন, এই ধরনের অস্ত্রোপচার এতদিন সম্ভব ছিল না। কারণ, মূত্রথলির চারপাশের রক্তনালীগুলো খুব জটিল এবং প্রযুক্তিগতভাবেও খুব কঠিন।

এর আগে যেসব রোগীর মূত্রথলি অপসারণ করতে হত, তাদের জন্য অন্ত্রের একটি অংশ দিয়ে কৃত্রিমভাবে থলি তৈরি করা হত। আবার অনেকের ক্ষেত্রে স্টোমা ব্যাগ ব্যবহার করে প্রস্রাব সংগ্রহ করতে হত। তবে এসব পদ্ধতির স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অনেক জটিলতা ও ঝুঁকি ছিল। চিকিৎসকরা আশা করছেন, সম্পূর্ণ মূত্রথলি প্রতিস্থাপন পদ্ধতিতে সেসব ঝুঁকি অনেকখানি এড়ানো সম্ভব হবে।