গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার ব্যুরো প্রধানের পুরো পরিবার। সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর সতর্ক বার্তার কারণে ওয়ায়েল আল-দাহদুহ তার পরিবারকে নিয়ে মধ্য গাজার নুসিরাত ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। সেখানেই হামলা করা হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

গতকাল মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) গভীর রাতের বিমান হামলায় আল-দাহদুহের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও নাতি নিহত হন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, একই বিমান হামলায় আরো ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে নিহত হয়েছেন কয়েকশ’ ফিলিস্তিনি।

আল-দাহদুহের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন। আলজাজিরায় প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, আপনজনদের মৃতদেহ দেইর আল-বালার আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের মর্গে দেখে কাঁদছেন আল-দাহদুহ।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসার পথে আলজাজিরাকে তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা পরিষ্কার। শিশু, নারী ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে সিরিজ হামলা এটি। আমি ইয়ারমুক থেকে এ ধরনের একটি হামলার বিষয়ে প্রতিবেদন করছিলাম। ওই সময় নুসিরাতসহ অনেক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায় ইসরায়েল।

আরো বলেন, আমাদের সন্দেহ ছিল যে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব এ লোকদের শাস্তি না দিয়ে যেতে দেবে না। দখলদার সেনারা এলাকাটিকে ‘নিরাপদ’ বললেও দুঃখজনকভাব তাই ঘটেছে।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় নিহতদের মধ্যে ২২ জনেরও বেশি সাংবাদিক রয়েছেন।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আলজাজিরা। এদিকে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া প্রায় ছয় লাখ বাসিন্দা ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলে নিহত হয়েছে এক হাজার ৪০০ এর বেশি মানুষ।