আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের ঐতিহাসিক ‘রিও গ্র্যান্ড গর্জ’ সেতুটি পদচারীদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গত তিন সপ্তাহে তিনজন মানুষ ওই সেতু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
টাওস কাউন্টি শেরিফের অফিসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরে ব্রিজটিতে আত্মহত্যায় মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
গত রোববার কর্মকর্তারা ৬০০ ফুট গভীর গর্তে নেমে ১৫ বছরের স্থানীয় এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপরই ব্রিজটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এটি ছিল ২০২৫ সালে ব্রিজটিতে আত্মহত্যার মাধ্যমে মৃত্যুবরণকারী ষষ্ঠ ব্যক্তি। এছাড়াও গত ৫ সেপ্টেম্বর, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভোগা ৬০ বছর বয়সী এক আর্মি ভেটেরান টেক্সাসের সান অ্যান্তোনিও থেকে ১৫ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে এসে ব্রিজটি থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস।
এর ফলে পদচারীদের জন্য বন্ধ ঘোষণা জোরালো দাবি উঠায় এখন চলছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূল্যায়নের কাজ। আর ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ ব্রিজে নিরাপত্তা ব্যারিয়ার স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
টাওস কাউন্টি শেরিফের অফিস ব্রিজটি বন্ধ ঘোষণা করার পর জানায়, ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যারিয়ার স্থাপন করা সম্ভব হলে তবেই ব্রিজটি পুনরায় খুলবে।’ আগে নিরাপত্তায় দুইজন রক্ষী নিয়োজিত থাকলেও বর্তমানে ব্রিজটিতে তিনজন নিরাপত্তা রক্ষী রাখা হয়েছে। এছাড়াও ব্রিজে স্তাপিত ক্রাইসিস কল বক্স আরো উন্নত করা হয়েছে।
১ হাজার ২৮০ ফুট দীর্ঘ স্টিল-আর্চ ব্রিজটি টাওস শহরের পাঁচ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। ৫০ বছর আগে নির্মিত এ ব্রিজ চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয়।
নিউ মেক্সিকো ফাইট ফর লাইফ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাশলি রোসলার বলেন, ‘আমরা আত্মহত্যার পথটা খুব সহজ করে দিচ্ছি। একটু থামানো গেলে হয়তো জীবনটা বাঁচত। এভাবে তাহলে হয়তো সেই কিশোরটি নিজেকে শেষ করত না।' এজন্য তিনি চার ফুট উঁচু রেলিংয়ের পরিবর্তে নিরাপত্তা ব্যারিয়ার স্থাপনের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজে ২০২৪ সালে নেট বসানোর পর আত্মহত্যার হার কমেছে ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ফ্লোরিডার সানশাইন স্কাইওয়ে ব্রিজে ১১ ফুট উঁচু নেট বসানোর পর আত্মহত্যার হার বছরে ১২-১৫ শতাংশ থেকে ৩-শতাংশে নেমেছে।
এদিকে, ২০১৮ সালের একটি স্টাডিতে দেখা গিয়েছে, রিও গ্র্যান্ড গর্জ ব্রিজে নেট বা ফেন্স বসাতে হলে কাঠামোগতভাবে তাকে বেশি শক্তিশালী করতে হবে। সেজন্য নিউ মেক্সিকোর পরিবহন সচিব রিক সেরনা জানিয়েছেন, তিনি সেই স্টাডির পরামর্শদাতার সঙ্গে কাজ করছেন একটি আপডেটেড মূল্যায়নের জন্য।










