গাজা উপত্যকায় ১৮ মার্চ নতুন করে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় গতকাল পর্যন্ত ৬৩৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১ হাজার ১৭২ জন। এছাড়া ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলার জবাবে গতকাল লেবাননে পাল্টা হামলা চালিয়েছে দেশটি। এদিকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে ফেরার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। খবর আল জাজিরা ও এপি।
এর আগে ডিসেম্বরের পর দ্বিতীয়বারের মতো লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়া হয়েছিল। এতে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যে নাজুক যুদ্ধবিরতি চলছে, তা টিকে থাকবে কিনা সে বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের যেসব রকেট হামলা প্রতিহত করেছে, সেগুলোর লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের মেতুলা শহর। এ রকেট হামলার জবাবে কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিল ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।
নভেম্বরে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীকে জানুয়ারির শেষ নাগাদ লেবাননের সব এলাকা থেকে সরে যাওয়ার কথা ছিল। পরে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে এ সময়সীমা ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু তার পর থেকে লেবাননের ভেতরে পাঁচটি এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছে ইসরায়েল। এলাকাগুলো ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের শহরগুলোর কাছাকাছি। ইসরায়েল দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে বেশ কয়েকটি বিমান হামলাও চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে। লেবানন জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ করেছে যেন পুরোপুরি সরে যেতে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানায়, তারা সেনাবাহিনীকে লেবাননে বহু লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। ইসরায়েল তার নাগরিকদের বা সার্বভৌমত্বের কোনো ক্ষতি হতে দেবে না। তারা লেবাননের দক্ষিণে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এক বিবৃতিতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জানান, তিনি দক্ষিণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। লেবানন আবারো যুদ্ধে যেতে চায় না বলে জানিয়েছেন তিনি।
লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউএনআইএফআইএল জানিয়েছে, সহিংসতা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন। তারা সব পক্ষকে অনুরোধ করেছে যেন এখন পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি ঝুঁকির মুখে না পড়ে। সহিংসতা বাড়লে পুরো অঞ্চলের জন্য তা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সেনাবাহিনীকে গাজায় অতিরিক্ত এলাকা দখল, জনগণকে সরিয়ে নেয়া এবং ইসরায়েলি সম্প্রদায় ও সেনাদের সুরক্ষার জন্য গাজার চারপাশে নিরাপত্তা অঞ্চল সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।
গাজা উপত্যকায় দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের তিন প্রভাবশালী দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো এ আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিটি দিয়েছেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা বলেন, পানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসার জন্য অস্থায়ীভাবে লোকজনকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে আমরা ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের প্রতিও আহ্বান জানান তারা।
তারা বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের সামরিক সমাধান সম্ভব নয়। একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমেই কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
এছাড়া গাজায় জাতিসংঘের প্রকল্প পরিষেবা কার্যালয় (ইউএনওপিএস) ভবনে হামলার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।










