গাজায় চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে অধিকাংশ মানুষ দিনে এক বেলা খাবার খেয়ে দিন পার করছে। ক্ষুধার্ত শিশুর কান্নায় ভেঙে পড়ছে পরিবারগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে থাকতে পারে। খবর এপি।
আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজায় খাদ্য সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক মানুষ ক্ষুধার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে শিশুরা। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চিকিৎসা পাওয়াও কঠিন হয়ে গেছে।
দেইর আল-বালাহ অঞ্চলে তাঁবুতে বসবাস করছেন ইয়াসমিন ঈদ। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েরা ক্ষুধার কারণে প্রায়ই আঙুল চোষে। আমি তাদের পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়াই।’ পাঁচবার বাড়ি ছেড়ে তিনি পরিবার নিয়ে এ অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানান, প্রায়ই তাদের খালি পেটে ঘুমাতে হয়।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার কেন্দ্র ও দক্ষিণ অংশেও তীব্র খাদ্য সংকট চলছে। গাজায় খাদ্য সরবরাহে ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে গত সাত সপ্তাহে সহায়তার পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। চলমান সংঘাত, পরিবহন বাধা ও লুটপাটের কারণে সহায়তা বিতরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
যদিও ইসরায়েল বলছে, তারা সহায়তা প্রবেশে কোনো বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু সামরিক প্রতিবন্ধকতা ও চলমান সংঘাত সহায়তা বিতরণকে আরো জটিল করে তুলছে। চলতি নভেম্বরে গাজায় প্রায় ২ হাজার ৪০০টি ট্রাক সহায়তা প্রবেশ করতে পারে, যা যুদ্ধের আগে দৈনিক ৫০০ ট্রাকের তুলনায় অনেক কম।
স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী। পেঁয়াজের কেজি ১০ ডলার, তেলের বোতল ১৫ ডলার আর মাংস ও মুরগি প্রায়ই পাওয়া যায় না।
গাজার স্যুপ কিচেনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হানি আলমাধুন জানান, তারা প্রতিদিন মাত্র ৫০০টি পরিবারকে খাওয়াতে পারছেন। সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের দৈনিক ব্যয় ৫০০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩০০ ডলারে পৌঁছেছে।
এ যুদ্ধ শুরু হয় গত ৭ অক্টোবর, যখন হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও ২৫০ জনকে বন্দি করে। পাল্টা হামলায় ইসরায়েল গাজায় ৪৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। নিহতদের অধিকাংশই ছিল নারী ও শিশু।
গাজার মানুষ এখন বেঁচে থাকার লড়াই করছে। ইয়াসমিনের স্বামী হানি বলেন, ‘২১ জনের পরিবারের জন্য এক বস্তা ময়দাও আনতে পারি না। এটা বলতে লজ্জা লাগে।’










