বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। জাতিসংঘ সমর্থিত গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিসের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের ৫৩টি দেশের প্রায় ৩০ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে। যাদের অনেকেই ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছেন। খবর গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ছয় বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে খাদ্য সংকট বাড়ছে। শুধু গত বছরেই নতুন করে ১ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সহিংস সংঘাত, মানবিক সহায়তায় কাটছাঁট, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এ সংকটের মূল কারণ।

খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেস ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এদের অধিকাংশই গাজা উপত্যকা ও সুদানে অবস্থান করছে। এছাড়া হাইতি, মালি ও দক্ষিণ সুদানের পরিস্থিতিও ভয়াবহ।

সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের ফলে বর্তমানে দু্ই কোটিরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে, যাকে ‘দুর্ভিক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গাজা উপত্যকায়ও অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। মার্চ মাসে সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার পর এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কারণে সেখানে খাদ্য প্রবেশ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবার প্রকাশিত আইপিসির পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার ২১ লাখ মানুষের প্রায় সবাই দুর্ভিক্ষের ‘চূড়ান্ত ঝুঁকিতে’ রয়েছে। ইসরায়েলি অবরোধের ফলে সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না। এছাড়া মিয়ানমার, নাইজেরিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে চলমান সহিংসতা খাদ্য সংকট আরো তীব্র করে তুলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইথিওপিয়া, কেনিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানেও দীর্ঘ খরার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএইডের সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সুদান, ইয়েমেন ও হাইতির মতো দেশে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি শিশুর পুষ্টি সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে, যা তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।