প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুকে ক্ষমতাচ্যুত
করার লক্ষ্যে বিদ্রোহের ডাক দেয়া ওয়াগনার গ্রুপ ইউক্রেন সীমান্ত পেরিয়ে রাশিয়ার
একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে পৌঁছেছে। এক ভিডিও বার্তায় রোস্তভ থেকে এই তথ্য জানান ভাড়াটে
বাহিনীটির প্রধান ইয়েভেনি প্রিগোজিন। খবর এপি।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটির সামরিক দফতর নিয়ন্ত্রণের দাবি
করছেন তিনি। এখান থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধের তদারকি করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রিগোজিনের
পোস্ট করা ভিডিওতে সড়কে ট্যাঙ্কসহ সামরিক যানবাহন দেখা গেছে।
আজ শনিবার (২৪ জুন) ভোরে প্রিগোজিন জানান,
তার বাহিনী ইউক্রেন থেকে রোস্তভ পৌঁছেছে। চেকপয়েন্টে থাকা তরুণ সেনারা কোনো ধরনের
বাধা দেয়নি। জানান, তার বাহিনী ‘শিশুদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না।’
এর মধ্যে বিদ্রোহের মুখোমুখি হওয়ার কথা
স্বীকার করেছে ক্রেমলিন। সঙ্গে জানিয়েছে, শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জাতির
উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্থানীয় সংবাদ সংস্থাকে বলেন, পুতিন শিগগিরই ভাষণ দেবেন।
সশস্ত্র বিদ্রোহের হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে
দেখছে মস্কো। রাজধানী ও রোস্তভ-অন-ডনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন মস্কোর মেয়র। লিপেটস্ক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বলেছে, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
করা হয়েছে।
তবে ইয়েভেনি প্রিগোজিন কখন কীভাবে দক্ষিণ
রাশিয়ার শহরে প্রবেশ করেছেন বা তার সঙ্গে কতজন সৈন্য আছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট
হয়নি।
গতকাল দিবাগত গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায়
পোস্ট করা ভিডিওতে প্রিগোজিন আরো বলেন, যারা আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাকে ধ্বংস
করব। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ও শেষ পর্যন্ত যাব।
তার দাবি, ওয়াগনারের বহরকে আঘাত করার
জন্য যুদ্ধবিমানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ।
একটি বেসামরিক কাফেলার ওপর গুলি করলে তার বাহিনী একটি রাশিয়ান সামরিক হেলিকপ্টারকে
গুলি করেছে।
প্রিগোজিনের দাবি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
সের্গেই শোইগুর সঙ্গে বৈঠকের পরে গেরাসিমভের নির্দেশে ইউক্রেনে ওয়াগনার গ্রুপের আঘাত
হানা হয়। ওই বৈঠকে তারা ওয়াগনারকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ওয়াগনার বাহিনী ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘতম যুদ্ধে বাখমুত
শহর দখল করতে সাহায্য করেছে তারা। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে রুশ সেনাবাহিনীর অযোগ্যতা ও
অস্ত্র-গোলাবারুদের স্বল্পতা নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন প্রিগোজিন।
প্রিগোজিন জানান, তার নেতৃত্বে তার ২৫
হাজার সৈন্য রয়েছে। গতকাল রাতে তিনি বলেন, সৈন্যরা একটি সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে
প্রতিরক্ষামন্ত্রী শোইগুকে শাস্তি দেবে। ‘এটি সামরিক অভ্যুত্থান
নয়’ উল্লেখ করে সেনাবাহিনীকে
পাল্টা জবাব না দেয়ার আহ্বান করেন।
এদিকে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসেস
বা এফএসবির অংশ ন্যাশনাল অ্যান্টি-টেররিজম কমিটি প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের
ডাক দেয়ার অভিযোগ এনেছে। যার শাস্তি ২০ বছর পর্যন্ত জেল।
ওয়াগনারের চুক্তি সৈন্যদের প্রিগোজিনকে আটক এবং তার ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ আদেশ’ না মানার অনুরোধ করেছে এফএসবি। তারা বলছে, বাহিনী প্রধানের বক্তব্য ‘রুশ সৈন্যদের পিঠে ছুরিকাঘাত’ ও রাশিয়ায় সশস্ত্র সংঘাতকে উস্কে দিয়েছে।










