যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে কেনা শতাধিক ব্র্যান্ডের চালের নমুনায় পাওয়া গেছে বিপজ্জনক মাত্রার আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়াম। শিশুদের জন্য এই ভারী ধাতুগুলো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘হেলদি বেবিস, ব্রাইট ফিউচারস’ পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাজার থেকে সংগ্রহ করা চালের এক-চতুর্থাংশে আর্সেনিকের পরিমাণ মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি। শিশুদের চালে আর্সেনিকের মাত্রা এক হাজার বিলিয়নে ১০০ পার্টস নির্ধারিত করেছে সংস্থাটি।
গবেষণার সহলেখক জেইন হৌলিহান বলেন, ‘অল্প পরিমাণে হলেও আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়াম ডায়াবেটিস, বিকাশগত বিলম্ব, হৃদরোগ ও প্রজনন সমস্যার কারণ হতে পারে।’ শিশুদের ক্ষেত্রে এসব ধাতুর প্রভাব আরো গভীর হয়। তিনি জানান, ‘শূন্য থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের খাদ্যে গড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আর্সেনিক আসে চাল থেকে। লাতিনো শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ১৪ শতাংশ, আর এশীয় শিশুদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩০ শতাংশ। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- বেশিরভাগ বাবা মা-ই এ বিষয়ে সতর্ক নয়’
গবেষণায় ১৪৫টি চালের নমুনা ও গম, বার্লির মতো ৬৬টি বিকল্প শস্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। দেখা গেছে, অন্যান্য শস্যের তুলনায় চালে ২৮ গুণ বেশি আর্সেনিক রয়েছে। চালের উৎপত্তিস্থান ও ধরণ এর বিষাক্ততার মাত্রায় বড় ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, প্রাচীন পদ্ধতিতে অতিরিক্ত সেচের মাধ্যমে ধান উৎপাদনের ফলে চালে আর্সেনিকের মাত্রা বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ব্রাউন রাইসে সবচেয়ে বেশি আর্সেনিক পাওয়া গেছে। তুলনামূলকভাবে কম ধাতু পাওয়া গেছে ভারতের বাসমতি, থাইল্যান্ডের জেসমিন আর ক্যালিফোর্নিয়ার সুশি ও ক্যালরোজ চালে।
গবেষণায় ইনস্ট্যান্ট ও রেডি-টু-হিটের মতো প্রক্রিয়াজাত চালের প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ সেগুলোতে প্রসেসিংয়ের ফলে বাড়তি বিষাক্ত পদার্থ সৃষ্টি হতে পারে। আর্সেনিকের পরিমাণ কমানোর জন্য রান্নার পদ্ধতি বদলানোর পরামর্শ দিয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনটি।
রান্নার সময় ফুটিয়ে অতিরিক্ত পানি ফেলে দিলে আর্সেনিকের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ কমানো যায়। তবে শুধু ধুলেই কাজ হয় না। পাশাপাশি, আয়রন, ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীর থেকে এই ধাতু সহজে বেরিয়ে যেতে পারে।
গবেষকরা মনে করছেন, চালের প্যাকেটে উৎপাদনস্থানের তথ্য থাকা জরুরি। সুনির্দিষ্ট লেবেলিং এবং কড়া সরকারি নজরদারি ছাড়া সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।










