সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে নেপালে। আজ সোমবার সকালে রাজধানী কাঠমাণ্ডুর বাণেশ্বর এলাকায় প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয় জেন জিরা এবং অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানীরতে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দমন করতে রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত হচ্ছে জেন জি বিক্ষোভকারীদের। সংঘাতে এরইমধ্যে ৮ জন নিহতের সংবাদ পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। খবর হিমালয়ান টাইমস।

thumb

ছবি : কাঠমাণ্ডু পোস্ট

নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে, দুইজন সিভিল হাসপাতালে এবং একজন কাঠমাণ্ডু মেডিকেল কলেজ, সিনামঙ্গল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতদের মধ্যে কিছুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি। সিভিল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মোহন চন্দ্র রেগমি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো দুজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা বাণেশ্বরের ফেডারেল পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভ চলাকালীন আহত হন।

হিমালয়ান টাইমস বলছে, সম্প্রতি দেশটিতে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরকারের আদেশে নিষিদ্ধ হওয়ায় উসকে উঠেছে এ বিক্ষোভ। বিক্ষোভের নেতৃত্বে রয়েছে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম। বিক্ষোভ দমনে ব্যাপকভাবে জলকামান, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ব্যবহার করছে নেপালের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা লাঠি, গাছের ডাল পানির বোতল নিয়ে প্রতিরোধে নেমেছেন। বিক্ষোভে মুর্হুমুহু সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন তারা। বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারী জাতীয় পার্লামেন্ট ভবনেও ঢুকে পড়েছেন।

এখন পর্যন্ত রাজধানী কাঠমান্ডুতেই সীমাবদ্ধ আছে বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন দপ্তর থেকে ইতোমধ্যে কারফিউ জারি করে নোটিশ দেয়া হয়েছে। সেই নোটিশে বলা হয়েছে স্থানীয় সময় বেলা ১২ টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জারি থাকবে কারফিউ। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ অমান্য করে সড়কে নেমেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা।