২০২১ সালে দায়িত্ব নেয়ার এক মাসেরও
কম সময়ের মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আরোপিত ‘সন্ত্রাসী’
উপাধিটি বাদ দেন জো বাইডেন। প্রায় তিন বছর পর পূর্বসূরির সিদ্ধান্তে ফিরলেন এ মার্কিন
প্রেসিডেন্ট। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ। খবর আল-জাজিরা।
‘সন্ত্রাসী’ তালিকা থেকে বাদ দেয়া প্রসঙ্গে
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছিলেন, ইয়েমেনের ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির
স্বীকৃতি দিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ওই সময় জাতিসংঘ, সাহায্য গোষ্ঠী ও মার্কিন
আইন প্রণেতারা সতর্ক করেছিল যে ‘সন্ত্রাসী’ তালিকায় থাকলে ইয়েমেনে সাহায্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত
হতে পারে।
এদিকে গতকাল (১৭ জানুয়ারি) বুধবার
‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ তালিকায় নাম উঠার পরও হুথিরা এডেন উপসাগরে মার্কিন মালিকানাধীন
জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। জেনকো পিকার্ডি নামের বাল্ক ক্যারিয়ারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার
দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
মার্কিন সেনাবাহিনী বলছে, গতকাল সন্ধ্যায়
জাহাজটিতে একটি ড্রোন আঘাত করেছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্য ও
যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী ইয়েমেনে কয়েক ডজন হুথি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করে।
কিন্তু তাতেও হামলা থেকে বিরত হয়নি গোষ্ঠীটি।
বুধবার সন্ধ্যায় একজন হুথি মুখপাত্র
বলেন, আমাদের দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকান-ব্রিটিশ আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া সফলভাবে জেনকো
পিকার্ডি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটনের নতুন সিদ্ধান্তের
ফলে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুথিদের তহবিল স্থগিত করতে হবে এবং দলটির সদস্যদের
যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হবেন।
এদিন ‘বিশেষভাবে মনোনীত গ্লোবাল টেররিস্ট
গ্রুপ’ (এসডিজিটি) হিসেবে তালিকায় হুথিদের নাম পুনর্বহাল করে যুক্তরাষ্ট্র। মানবাধিকার
গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এ সিদ্ধান্ত ইয়েমেনের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর
নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া মার্কিন সিদ্ধান্ত হুথিদের আক্রমণ বন্ধ করতে সফল হবে
কিনা এ প্রশ্নও উঠৈছে।
ওয়াশিংটন ডিসির আরব সেন্টারের গবেষক
আফরাহ নাসের বলেন, আমি ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের বিধ্বংসী পরিণতি নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন।
সন্ত্রাসী তালিকায় হুথিদের নাম ইয়েমেনে মানবিক সংকট আরো গভীর করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এর আগে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুথিদের দীর্ঘ লড়াইয়ে
এ বিষয়টি দেখা গেছে।
অন্যদিকে হুথিদের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সীমিত বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনে মার্কিন দূতাবাসের মিশনের সাবেক ডেপুটি
চিফ নাবিল খৌরি। তিনি বলেন, এটি ন্যূনতম ধরনের নিষেধাজ্ঞা। যা শুধু বিদেশে তহবিল ও আন্তর্জাতিক
বাজারে প্রবেশ সীমাবদ্ধ করতে পারে। কিন্তু এমন কিছু হুথিদের নেই ও কখনো ছিল না। নিউইয়র্ক
স্টক এক্সচেঞ্জে তাদের কোনো হিস্যাও নেই।
জাতিসংঘের মতে, ইয়েমেনের জনসংখ্যার
অর্ধেকেরও বেশি প্রায় এক কোটি ৮২ লাখ মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। তারা অর্থনৈতিক সংকট,
ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষুধার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
গতকাল সকালে এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্লিংকেন বলেন, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় বৈশ্বিক সন্ত্রাসী
তালিকায় হুথিদের নাম এসেছে। যদি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে তারা আক্রমণ বন্ধ করে, তবে
যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করবে।
ইয়েমেনের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণকারী
ইরান-সমর্থিত হুথিরা গত অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র
নিক্ষেপ ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে। তাদের দাবি গাজায় হামলা বন্ধ
করতে হবে ও ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা সরবরাহের অনুমতি দিতে হবে।
হামলার ফলে শিপিং কোম্পানিগুলো লোহিত
সাগরে কার্যক্রম স্থগিত করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নিন্দা জানায়।
ডিসেম্বরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে রক্ষা
করার জন্য একটি নৌ জোট চালু করেছিল ওয়াশিংটন এবং এটি চলতি মাসে ইয়েমেনে হুথি লক্ষ্যবস্তুর
বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হামলা চালায়।
গতকাল বুধবার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা
পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী উপাধি হুথিদের লক্ষ্য
করে, ইয়েমেনের জনগণকে নয়।’
নিষেধাজ্ঞা কীভাবে হুথিদের সঙ্গে আলোচনাকে
প্রভাবিত করবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, কিরবি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘কোনো আলোচনা
নেই। দর কষাকষির চাপও নেই। এটি হুথিদের জবাবদিহি করানোর একটি উপায়।’










