মার্কিন বিনিয়োগকারী
জর্জ সরোস তার বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকার মনোনীত করেছেন। এখন থেকে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের
নিয়ন্ত্রণ থাকবে তার ছেলে আলেক্সান্ডারের হাতে। রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দেয়া এক
সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেন এ মার্কিন ধনকুবের।
ওয়াল স্ট্রিট
জার্নালকে হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত এ মানবহিতৈষী জানান, তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে অ্যালেক্স
চতুর্থ। ৯২ বছর বয়সী সরোস এর আগে অবশ্য এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি তার পাঁচ সন্তানের
কারো কাছেই ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব তুলে দিতে চান না। কিন্তু ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের
এ ফাউন্ডেশনের দায়িত্বভার তার ৩৭ বছর বয়সী ছেলের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা
জানিয়ে সরোস বলেছেন, ‘সে এটি অর্জন করেছে।’
জর্জ সরোস ১৯৭০
ও ৮০-এর দশকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন (ওএসএফ) প্রতিষ্ঠা করেনে।
এ সংগঠনের মাধ্যমে সুশাসন, গণতন্ত্রের বিস্তার থেকে উদার জননীতির প্রসারের মতো কার্যক্রমে
বিশ্বব্যাপী এনজিওগুলোকে সহায়তা করেছেন। সরোস যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির বড়
দাতাদের একজন। অ্যালেক্স ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, তিনি তার বাবার চেয়েও ‘অধিক
রাজনৈতিক’। তার প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
দ্বিতীয় মেয়াদে আসার পথ বন্ধ করা।
অ্যালেক্স এরই
মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের লাতিনো ভোটারদের কাছে তাদের আবেদন বাড়াতে এবং কালো ভোটারদের
ভোট টানতে সাহায্য করার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ ট্রাম্পকে ভোট দেয়ার
অর্থ এই নয় যে তারা হেরে গেছে বা বর্ণবাদী হয়ে গেছে। অ্যালেক্স বলেছেন, তার অধীনে
ওএসএফ তার পিতার দেখানো পথেই চলবে। বিশেষ করে বাক্স্বাধীনতা, ফৌজদারি আইন সংস্কার,
সংখ্যালঘু ও শরণার্থীদের অধিকার সুরক্ষা এবং উদারনৈতিক রাজনীতিবিদদের সমর্থন করে যাবে।
তবে তিনি ভোটের অধিকার, গর্ভপাতের অধিকার ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতেও কাজ করে যাবেন।
অনেকটা চুপিসারেই
গত ডিসেম্বরে ওএসএফের বোর্ড মেম্বাররা অ্যালেক্স সরোসকে তাদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত
করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অ্যালেক্স তার বাবার সুপার পিএসিরও প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থাটিও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছরগুলোয় ব্যয় করার জন্য ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার
বরাদ্দ রেখেছে।










